ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: গত চার দিন ধরে দফায় দফায় পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মঙ্গলবার সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির খাতা পুনর্মূল্যায়নের অনলাইন পোর্টালটি চালু করা হলো। তবে চালু হওয়ার প্রথম দিনেই পোর্টালটির ওপর একাধিক সাইবার হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। একইসঙ্গে, বোর্ডের পক্ষ থেকে পরিষেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, লগ-ইন করতে না পারা এবং ডাটা সেভ না হওয়ার মতো একাধিক গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনভর চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হলো পরীক্ষার্থীদের।
এদিন বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিবিএসই জানায়, বিকেল ৩টে পর্যন্ত পোর্টালটিতে এক সময়ে ৮,০০০-এর বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিলেন এবং ১৬,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী সফলভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝেই পোর্টালটিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য হ্যাকাররা পর পর সাইবার হামলা চালায়, যা বোর্ডের সাইবার নিরাপত্তা দল সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্ষতিকারক হ্যাকাররা একটি বড়সড় ‘ডিনায়াল-অফ-সার্ভিস’ বা ডিডস হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পোর্টালটিতে প্রায় ১৫ লক্ষ ভুয়ো ‘হিট’ বা ট্রাফিক তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি, সিস্টেমের ভেতর অননুমোদিতভাবে প্রবেশের জন্য আরও ১ লক্ষেরও বেশি চেষ্টা চালানো হয়েছিল। বোর্ড আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে তারা পোর্টালে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে সেশন টাইম লিমিট বৃদ্ধি করা অন্যতম। যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে আবেদন করতে পারেন।
বোর্ডের সাইবার হামলার তত্ত্ব এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিকে ছাপিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষোভের বন্যা বয়ে গেছে। অনেক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, সমস্ত সঠিক তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও লগ-ইন করার সময় স্ক্রিনে “লগইন ফেল” বার্তা ভেসে উঠছে। এক ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী লিখেছেন, “প্রত্যাশিতভাবেই সিবিএসই-র রিভ্যালুয়েশন পোর্টালের সাইন-ইন কাজ করছে না। সঠিক ডাটা দেওয়ার পরেও এরর দেখাচ্ছে। ক্রমাগত হেনস্থা করার জন্য সিবিএসই-কে অভিনন্দন।” অন্যান্য পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করার পর তাঁদের তথ্য সেভ হচ্ছে না। ফর্ম সাবমিট করলেই পোর্টালটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার লগ-ইন পেজে রিডাইরেক্ট করে দিচ্ছে এবং পুনরায় নতুন করে পুরো ফর্মটি পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি একটি ‘বাগ’ বা ত্রুটিযুক্ত ওয়েবসাইট সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য লাইভ করে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।
দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্রের স্ক্রুটিনি এবং খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য এই পোর্টালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সমস্ত পড়ুয়ারা ইতিমধ্যেই ফি জমা দিয়ে নিজেদের উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি হাতে পেয়েছেন, তাঁরা এই পোর্টালের মাধ্যমে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট অসঙ্গতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন। উত্তরপত্রের কোনও পাতা বাদ চলে যাওয়া, অতিরিক্ত খাতা বা সাপ্লিমেন্টারি শিট যুক্ত না হওয়া, ঝাপসা স্ক্যান, অন্য শিক্ষার্থীর খাতা আপলোড হওয়া, ভুল প্রশ্নপত্রের সেট অনুযায়ী খাতা মূল্যায়ন হওয়া এবং সুনির্দিষ্ট কোনও উত্তরের পুনর্মূল্যায়ন। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন পর্যন্ত এই পোর্টালটি আবেদনের জন্য খোলা থাকবে। তবে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, টাকা কাটার পরেও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা খাতার স্ক্যান কপি হাতে পাননি।
