ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: গুজরাটের সুরাট জেলার বারদোলি শহরের কাছে মহারাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন নিগম (MSRTC)-এর দুটি সরকারি বাসের মধ্যে মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর একটি বাসে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় এবং মৃতদের সকলেই ওই অভিশপ্ত বাসের যাত্রী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার গুজরাট ও মহারাষ্ট্রকে সংযোগকারী ৫৩ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর উভা গ্রামের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সুরাট জেলার পুলিশ সুপার (SP) রাজেশ গাধিয়া দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, এমএসআরটিসি-র একটি বাস সুরাট থেকে ধুলের দিকে যাচ্ছিল, অন্য বাসটি মহারাষ্ট্রের চালিসগাঁও থেকে সুরাটের অভিমুখে আসছিল। বারদোলি থেকে ব্যারা অভিমুখে যাওয়ার সময় সুরাট-ধুলে বাসটি প্রথমে একটি ট্র্যাক্টরের পেছনে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডার টপকে উল্টোদিকের লেনে চলে যায়। এরপর সেটি উল্টো দিক থেকে আসা চালিসগাঁও-সুরাট বাসটিকে সজোরে মুখোমুখি আঘাত করে। তীব্র সংঘর্ষের জেরে দ্বিতীয় বাসটি উল্টে গিয়ে রাস্তার পাশে একটি নিচু জমিতে বা খাদে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে সেটিতে আগুন ধরে যায়।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সুরাট এবং প্রতিবেশী তাপি জেলার পুলিশ, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাসের ভেতরে আটকে থাকা বহু যাত্রীকে জানলা ও দরজা ভেঙে উদ্ধার করে বারদোলির হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দুই বাসের মোট ৪০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রী প্রতাপ সারনায়েক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক” আখ্যা দিয়ে তিনি নিহতদের পরিবারগুলির জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। এমএসআরটিসি-র চেয়ারম্যানও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো যাত্রী ও নিগমের কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, আহত যাত্রীদের বিনামূল্যে সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী।
