ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২২ সালের সেই বিধায়ক বিদ্রোহের কালো স্মৃতি কি আবার ফিরে আসতে চলেছে উদ্ধব ঠাকরের শিবিরে? মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিবসেনা (UBT)-র ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে “ছয় থেকে সাতজন” সাংসদ একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শাসক শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন—এমনই এক তীব্র জল্পনার মাঝে বুধবার দলের সমস্ত সাংসদদের জন্য জরুরি ‘হুইপ’ জারি করল উদ্ধব শিবির। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমস্ত সাংসদকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠক যারা এড়িয়ে যাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে।
২০২২ সালের ছায়া ২০২৬-এ?
উদ্ধব শিবিরের এই হুইপ জারির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এর আগে ২০২২ সালে যখন বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের নেতৃত্বে ৩৯ জন শিবসেনা বিধায়ক তৎকালীন মহাবিকাশ আঘাড়ি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, ঠিক একইভাবে দলের পক্ষ থেকে হুইপ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্দেশ অমান্য করায় সেই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছিল। এবার লোকসভা সাংসদদের ক্ষেত্রেও একই রণকৌশল অবলম্বন করছে শিবসেনা।
তোপ সঞ্জয় রাউতের
দিল্লিতে ডেরা গেড়ে থাকা শিবসেনা (UBT) নেতা সঞ্জয় রাউত ‘এক্স’-এ আক্রমণ করে লিখেছেন, “সব হিসাব চুকানো হবে।” দলবদলু সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ করে রাজ্যসভার এই সদস্য লেখেন, “একটি চার্টার্ড বিমান নান্দেদে অবতরণ করে এবং ‘অপারেশন টাইগার’-এর নামে দু’জন সাংসদকে তুলে নিয়ে উড়ে যায়। একসময় যাদের অটো রিকশায় চড়ারও সামর্থ্য ছিল না, আজ ঠাকরে পরিবারের সৌজন্যেই তাদের যোগ্যতা চার্টার্ড প্লেনে ওড়ার মতো হয়েছে। এই সব কিছুর হিসাব রাখা হচ্ছে। কিন্তু ভীতু নেকড়েদের এই পলায়নকে আপনারা কেন ‘অপারেশন টাইগার’ বলছেন?” উল্লেখ্য, অবিভক্ত শিবসেনার মূল প্রতীক বা ম্যাসকট ছিল একটি বাঘের ছবি, যা এঁকেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে। ফলে এই দলবদলের প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নাম দেওয়া হলেও, উদ্ধব শিবির একে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাউত দাবি করেছিলেন, মহারাষ্ট্রের সাংসদদের কিনতে “১৫ কোটি টাকার অগ্রিম” দেওয়া হচ্ছে।
‘আমি উদ্ধবজীর সাথেই আছি’: দাবি নাসিকের সাংসদের
দলের মধ্যে ভাঙনের এই তীব্র জল্পনার মাঝেই নাসিকের শিবসেনা সাংসদ রাজাভাবু ওয়াজে বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি উদ্ধব ঠাকরের ক্যাম্পেই আছেন। দিল্লিতে একটি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র সাথেই আছি। আমার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি এবং আমিও কারও টাচে নেই।” তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের সংসদীয় কমিটির যে বৈঠক ডাকা হয়েছে, তিনি তাতে নিশ্চিতভাবেই অংশ নেবেন। সঞ্জয় রাউতের দাবি অনুযায়ী, গত রবিবার আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত থাকা সমস্ত সাংসদ তাঁদের মা, সন্তান, সাইবাবা এবং দেবী তুলজাভবানীর নামে শপথ নিয়ে বলেছেন যে তাঁরা কোনো অবস্থাতেই উদ্ধব ঠাকরেকে ছেড়ে যাবেন না।
স্পিকার ওম বিড়লার দরবারে উদ্ধব শিবির
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিক্ষুব্ধ সাংসদদের মতো একই কায়দায় শিবসেনা সাংসদেরাও যাতে সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না পেয়ে যান, তা আটকাতে আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে উদ্ধব শিবির। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন শিবসেনা সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত। চিঠিতে সাওয়ান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সংসদের ভেতরে কোনো নেতার কর্তৃত্ব নির্ধারণ, হুইপ নিয়োগ বা কোনো আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার আসল ক্ষমতা থাকে মূল রাজনৈতিক দলের হাতে। মূল রাজনৈতিক দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আইনসভা বা সংসদের ভেতরের কোনো গোষ্ঠীর স্বাধীন কোনো অস্তিত্ব বা ক্ষমতা থাকতে পারে না।” তিনি স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কোনো গোষ্ঠী যদি নিজেদের আসল শিবসেনা বলে দাবি করে স্বীকৃতি চায়, তবে তা যেন কোনোভাবেই গ্রাহ্য করা না হয়। দলবদলের এই নয়া নাটকের জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা দেখতে এখন দিল্লির দিকে চোখ রাজনৈতিক মহলের।
