ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানের জেলে বন্দি থাকা এবং ইতিমধ্যেই সাজার মেয়াদ পূর্ণ করা ১৮৮ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ও বেসামরিক বন্দিকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিল ভারত। বুধবার কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০০৮ সালের দ্বিপাক্ষিক কনসুলার অ্যাক্সেস চুক্তির নিয়ম মেনে প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুলাই ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের হেফাজতে থাকা বন্দিদের তালিকা বিনিময় করেছে। একই সাথে, পাকিস্তানের ফারুকাবাদে একটি ১২৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
কী বলছে পরিসংখ্যান?
১ জুলাই নতুন দিল্লি এবং ইসলামাবাদে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুগপৎভাবে এই বন্দি তালিকা বিনিময় করা হয়। ভারত সরকারের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন জেলে ৩৮৬ জন বেসামরিক বন্দি এবং ৫৩ জন মৎস্যজীবী রয়েছেন, যাঁরা পাকিস্তানি নাগরিক বলে বিশ্বাস করা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, তাদের হেফাজতে ৫২ জন বেসামরিক বন্দি এবং ১৯৮ জন মৎস্যজীবী (মোট ২৫০ জন) রয়েছেন, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচিত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকারের নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে এ পর্যন্ত মোট ২,৬৬১ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং ৭৮ জন বেসামরিক বন্দিকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০০ জন মৎস্যজীবী এবং ২০ জন বেসামরিক বন্দি দেশে ফিরেছেন।
নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, সাজা শেষ হওয়া ১৮৮ জন জওয়ান ও মৎস্যজীবীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি, পাকিস্তানের জেলে থাকা এমন ১৩ জন ভারতীয় বেসামরিক বন্দিকে দ্রুত ‘কনসুলার অ্যাক্সেস’ (আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তার সুযোগ) দিতে হবে, যাদের এখনও পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়নি। একই সাথে, যতদিন না তারা ভারতে ফিরছেন, ততদিন জেলে থাকা সমস্ত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—তারা সাজা পূর্ণ হওয়া এবং জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়া ৯৭ জন পাকিস্তানি বন্দিকে (৬৪ জন বেসামরিক এবং ৩৩ জন মৎস্যজীবী) দ্রুত মুক্তি দিয়ে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ করেছে।
বন্দি বিনিময়ের সমান্তরালে, পাকিস্তানের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের প্রাচীন এবং পবিত্র ‘গুরুদ্বারা শ্রী গুরু সিং সভা সাহেব’ ভেঙে ফেলার ঘটনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে “চরম বেদনাদায়ক” ও “নিন্দনীয়” বলে উল্লেখ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এক সরকারি বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, “পাকিস্তানের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরোনো পবিত্র ঐতিহাসিক গুরুদ্বারাটি ভেঙে ফেলার অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর আমাদের নজরে এসেছে। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই ধর্মীয় স্থানের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুরের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
ভারত সরকার পাকিস্তান প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এবং পবিত্র উপাসনালয় ধ্বংসের পেছনে থাকা অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করে। এই ঘটনা পাকিস্তানের সংখ্যালঘু শিখদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত বলেও মনে করছে ভারতের কূটনৈতিক মহল।
