ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকে একটি পাথর খাদানে ভয়াবহ পাথর ধসের ঘটনায় অন্তত ৮ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে বেঙ্গালুরু আরবান এবং বেঙ্গালুরু দক্ষিণ জেলার সীমান্তবর্তী মাডাপাট্টানা এলাকার একটি পাথর ক্রাশার সাইটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের অধিকাংশেরই বাড়ি বিহারে এবং তাঁরা সকলেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে সেখানে কাজ করতেন। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরবেলা যখন শ্রমিকরা খাদানে পাথর উত্তোলনের কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই আনুমানিক ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল আকৃতির গ্রানাইট পাথর হুড়মুড়িয়ে শ্রমিকদের ওপর ভেঙে পড়ে। বিশাল পাথরের চাঁইয়ের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ভয়ানক ছিল, পাথর কাটার সাইটে থাকা ভারী লোডিং গাড়িগুলি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। একটি ট্রাক্টর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ঘটনার সময় সেখানে বিহার এবং উত্তর কর্ণাটকের প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর পরই নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের পরিবার ও বন্ধুদের কান্নায় পুরো এলাকায় এক শোকাকুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং জেসিবি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাকিদের উদ্ধারের কাজ শুরু করে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, “মাডাপাট্টানায় ক্রাশারের দেওয়াল ধসে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোয়ারি বা খাদান পরিচালকদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যে সমস্ত খাদান নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে কাজ চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।”
দুর্ঘটনার পর পরই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যশবন্তপুরের বিজেপি বিধায়ক এস টি সোমশেখর। তিনি দাবি করেন, এই মাডাপাট্টানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে বেআইনি পাথর খনন চলছে এবং এই নিয়ে তিনি কর্ণাটক বিধানসভাতেও একাধিকবার সরব হয়েছেন। এমনকি কিছু দিন আগে কোয়ারি মালিকদের চালানো অবৈধ বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি চিতাবাঘেরও মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বিধায়ক সোমশেখর সাংবাদিকদের বলেন, “এই মারাত্মক বেআইনি কর্মকাণ্ডের সাথে পুলিশ, বন দপ্তর এবং খনি দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা সরাসরি যুক্ত। ৮টি তাজা প্রাণ চলে যাওয়ার পেছনে এই আধিকারিকদের গাফিলতি রয়েছে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা উচিত।” এই ঘটনার পেছনে থাকা প্রভাবশালী ‘মাফিয়া’রা যাতে আইনের হাত থেকে পার পেয়ে না যায়, তার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এমনকি কয়েকজন শ্রমিক আজীবনের মতো পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। খাদানটিতে কোনো সুরক্ষাবিধি মানা হয়েছিল কিনা এবং এই ধসের পেছনে কোয়ারি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহত বিহারের শ্রমিকদের পরিবারকে খবর দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
