ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় স্থলসেনার নতুন ও ৩১তম প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ। চার দশকেরও বেশি সময় দেশসেবার পর বিদায় নেওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। মঙ্গলবার এক জমকালো বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেনারেল শেঠের হাতে সেনাবাহিনীর ব্যাটন ও গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।
নতুন সেনাপ্রধানের যোগ্যতার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে বিদায়ী জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, “আজ আমি জেনারেল ধীরাজ শেঠের হাতে এই মহান দায়িত্ব তুলে দিচ্ছি। তিনি একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ সৈনিক এবং অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজের গর্বিত ঐতিহ্য, পেশাদারিত্ব এবং দায়বদ্ধতা বজায় রেখে আরও নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে।”
সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, “দায়িত্ব হস্তান্তর করার এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। আমাদের ফৌজ সর্বদা নিজের ঐতিহ্যের মূলে অবিচল থাকবে, বর্তমান যুগের যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে সতর্ক নজর রাখবে এবং ভবিষ্যতে তৈরি হওয়া যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সদা প্রস্তুত থাকবে।”
জেনারেল ধীরাজ শেঠ খড়গওয়াসলার ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি’-র প্রাক্তন ছাত্র। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী শাখা ‘অ্যামর্ড কর্পস’-এ কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৯ বছরের বর্ণময় সামরিক জীবনে তিনি সেনাবাহিনীর অপারেশনাল, স্ট্র্যাটেজিক, রণক্ষমতার বিকাশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা ভারতীয় স্থলসেনার আধুনিকীকরণে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বৈচিত্র্যময় ও প্রতিকূল যুদ্ধক্ষেত্রে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে- মরুভূমি সেক্টরে একটি অ্যামর্ড রেজিমেন্ট পরিচালনা। ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে একটি অ্যামর্ড ব্রিগেডের নেতৃত্ব। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ফোর্স’-এর সফল কম্যান্ড। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতির পর তিনি সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন ‘সুদর্শন চক্র কর্পস’-এর নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি ‘দিল্লি এরিয়া’-র জেনারেল অফিসার কম্যান্ডিং (GOC) হিসেবে দায়িত্ব সামলান, যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের দেখভাল করেন তিনি।
আর্মি কম্যান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি প্রথমে সাউথ ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড এবং পরবর্তীতে সাউদার্ন কম্যান্ড-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল আর্মি কম্যান্ডের স্ট্র্যাটেজিক তদারকি করার এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী তিনি। সেনাসদরের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ও আধুনিকীকরণ বিভাগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ভূমিকা নিয়েছেন।
সামরিক বিদ্যায় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে ধীরাজ শেঠ প্রতিবারই শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন। তিনি ‘হায়ার কম্যান্ড কোর্স’ এবং দিল্লির ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ (NDC)-এর স্নাতক। এছাড়া, ফ্রান্সের প্যারিসে মর্যাদাপূর্ণ ‘কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স’-এও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক স্তরের এই উচ্চশিক্ষা সমকালীন বিশ্বরাজনীতি এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে তাঁর দূরদর্শিতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এমন এক অভিজ্ঞ ও যুদ্ধকৌশলী সেনাপতির হাত ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনী আগামী দিনে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও আধুনিক ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে দেশের সামরিক মহল।
