ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: পাঞ্জাবের মানসা জেলায় এক বুক কাঁপানো ও মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। নিজের তিন সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক মহিলা। শুক্রবার পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত নারীর নাম সন্দীপ কৌর (৩৬)। মানসা শহরের সিটি পুলিশ স্টেশন-২ এর স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) কুলবন্ত সিং ফোনে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মানসার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে সন্দীপ কৌরের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর তিন সন্তানের নিথর দেহ। মৃত শিশুরা হলো— বড় মেয়ে খুশপ্রীত কৌর (১২), মেজো মেয়ে সমনদীপ কৌর (৭) এবং মাত্র দুই বছর বয়সী এক শিশুপুত্র।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, সন্দীপ কৌর তাঁর বড় মেয়ে খুশপ্রীতকে খাবারের সাথে কোনো বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে, বাকি দুই ছোট সন্তানকে তিনি নিজে হাতে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সন্তানদের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তিনি নিজে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। তবে এসএইচও কুলবন্ত সিং জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং সুনির্দিষ্ট সময় স্পষ্ট হবে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সন্দীপ কৌরের জীবন গত কয়েক মাস ধরে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কিছুদিন আগেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামী হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে তীব্র আর্থিক অনটন ও মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর। মৃত নারীর মা নিজে একজন দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ফলে পরিবারটির আর্থিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত শোচনীয় ছিল।
ঠিক কী কারণে এই নারী এমন চরম ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন এবং কেনই বা নিজের কোলের সন্তানদের প্রাণ কেড়ে নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তীব্র একাকীত্ব, স্বামীর মৃত্যুজনিত শোক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিবাদ ও মানসিক অবসাদ কাজ করছিল—সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
