TOP NEWS

ই২০ পেট্রোলে কি কমছে গাড়ির মাইলেজ? এই প্রথম খামতির কথা স্বীকার করল কেন্দ্র, কি বললেন হরদীপ পুরী?

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: ইথানল মিশ্রিত ই২০ (E20) পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে—এই প্রথমবার জনসমক্ষে এমন সম্ভাবনার কথা স্বীকার করল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে একই সাথে গাড়িচালকদের আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, মাইলেজ সামান্য কমলেও এর পেছনে কেবল ইথানল নয়, আরও অনেক পারিপার্শ্বিক কারণ থাকতে পারে। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “অনেকেই বলছেন যে এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে। তবে এটি এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে রেসিং কারেও ইথানল ব্যবহার করা হয়। এর ফলে গাড়ির অ্যাক্সিল্যারেশন (গতি বৃদ্ধি) ভালো হয়। এছাড়া ইঞ্জিনের ‘নকিং’ (অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণজনিত শব্দ)-এর সমস্যাও কমে। তবে হ্যাঁ, মাইলেজ সামান্য কমতে পারে। তবে সেই সামান্য ড্রপ বা খামতি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।”

ই২০ পেট্রোল (যা ২০% ইথানল এবং ৮০% পেট্রোলের মিশ্রণ) ব্যবহারের ফলে গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে বীমা বা ইন্সুরেন্সের টাকা পাওয়া যাবে না—বাজারে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জনকেও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “কেউ কেউ রটাচ্ছেন যে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে গাড়ির ইন্সুরেন্স কভারেজ পাওয়া যাবে না। কিন্তু বীমা কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে এমন কোনো সমস্যা বা নিয়ম নেই।” তিনি আরও বলেন, সিয়াম এবং এআরএআই-এর মতো দেশের শীর্ষ গাড়ি প্রযুক্তি ও উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির সাথে সবরকম আলোচনার পরই কেন্দ্র বাজারে ই২০ পেট্রোল এনেছে।

সম্প্রতি ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) ২২%, ২৫%, ২৭% এবং ৩০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের মান নির্ধারণ করেছে এবং এগুলিকে আবগারি শুল্ক থেকে ছাড় দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, এটি কেবল একটি আগাম আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ। এর মানে এই নয় যে এখনই বাজারে উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়ে যাবে। মন্ত্রী হরদীপ পুরী বলেন, “বর্তমানে আমরা কেবল ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণে রয়েছি। যদি আমরা ২০% থেকে ২৫%-এ যাই, তবে তা সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই করা হবে। ভারতের বড় বাজারে ইলেকট্রিক ভেহিকেল, হাইব্রিড গাড়ি, সিএনজি এবং বায়োফুয়েল গাড়ি—সবার জন্যই পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।”

সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে এই ব্লেন্ডেড বা মিশ্রিত পেট্রোলকে তুলে ধরা হলেও, ইথানলের কারণে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়া বা মাইলেজ কমে যাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছিল। এই প্রেক্ষিতে ‘এক্স’-এ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে একটি বিস্তারিত পোস্ট করে জানানো হয়েছে যে—ইথানল মিশ্রণের ফলে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে বা গ্রাহকদের অসুবিধা হচ্ছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ তথ্যহীন ও ভ্রান্ত। ইথানল মিশ্রণ একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই উদ্যোগ, যা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!