ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা গণনার সময় বড়সড় জালিয়াতি ও চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। মন্দিরের ‘পিলগ্রিম ফ্যাসিলিটি সেন্টার’-এর গত ৪৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করে পুলিশ দেখতে পেয়েছে যে, টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাই বান্ডিল বান্ডিল নোট সরিয়ে তা নিজেদের জামাকাপড় এবং মোজার ভেতর লুকিয়ে রাখছেন। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২৫ জুন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। ধৃতরা হলেন— অবিনাশ শুক্লা, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতদের মধ্যে তিন্নু যাদব হলেন রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের প্রাক্তন গাড়িচালক। আর একজন ধৃত মণীশ যাদব হলেন এই তিন্নুরই ভাইপো। পুলিশ ইতিমধ্যেই অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র এবং মণীশ যাদবের ডেরা ও সংশ্লিষ্ট প্রাঙ্গণগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে।
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “টাকা গণনার সময় সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, পাঁচজন ব্যক্তি নোটের স্তূপ থেকে চতুরতার সাথে বান্ডিল সরিয়ে নিজেদের জামাকাপড় ও মোজার ভেতর গুঁজে রাখছেন। দুর্ভাগ্যবশত, মন্দিরে ৪৫ দিনের বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ব্যাক-আপ থাকে না। তাই এই চুরির খেলা ঠিক কতদিন ধরে চলছিল, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।”
রাম মন্দিরের বিভিন্ন দানবাক্সে জমা পড়া নোট ও কয়েন গণনার জন্য ট্রাস্ট প্রায় ৫০ জন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। ধৃত আটজনের মধ্যে ছয়জনকে বারাণসীর ‘সৈনিক সিকিউরিটিজ’ নামক একটি ম্যানপাওয়ার এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ করেছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। এই বিষয়ে সিকিউরিটিজের ডিরেক্টর গৌরব সিং জানান, তাঁর সংস্থা মূলত হাউসকিপিং স্টাফ সরবরাহ করে। ব্যাঙ্কিং কাজের জন্য তারা কর্মী দেয় না। রাম মন্দিরের ক্ষেত্রে কর্মী বাছাইয়ের কোনো স্বাধীনতাই তাঁদের দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, “এসবিআই আমাদের যে নামগুলি দিয়েছিল, আমরা কেবল তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাই করে কাগজের কাজ সম্পন্ন করেছি। এই ব্যক্তিরা আগে কখনও আমাদের সংস্থায় কাজ করেননি।” এই সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এজেন্সির এই দাবিকে মান্যতা দিয়ে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “সিট রিপোর্টেও স্পষ্ট, রাম মন্দির সম্পূর্ণ তদর্থবাদ বা ‘অ্যাড-হক’ নিয়মে চালানো হচ্ছিল। ধৃতদের অনেকেই একে অপরের আত্মীয় অথবা ট্রাস্টের কোনো আধিকারিকের পরিচিত। শুধু ধৃতরাই নন, টাকা গণনার কাজে নিযুক্ত সিংহভাগ কর্মীকেই কোনো রকম কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা চারিত্রিক যাচাই ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল, কারণ ‘কেউ না কেউ কারও পরিচিত’ ছিলেন। এমনকি গণনা কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কোনো কঠোর তল্লাশি বা ফ্রিস্কিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না।”
পুলিশ এখন ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখছে, যাতে বোঝা যায় চুরির টাকা দিয়ে কোনো স্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়েছে কি না। এই চুরির পেছনে স্টেট ব্যাঙ্কের কোনো আধিকারিকের হাত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পাঠানো প্রশ্নাবলীর কোনো জবাব এখনো দেয়নি স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।
