TOP NEWS

“১০০টি বাড়ি ভাঙা হলো, সরকার কি নাগরিকদের জন্য দায়ী নয়?” সুরাটের বেআইনি উচ্ছেদ নিয়ে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সুরাটের নারিসনগর এলাকায় প্রায় ১০০টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গুজরাত প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভ উগরে দিল গুজরাত হাইকোর্ট। গত ৩০ মে ঘটে যাওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানকে “সম্পূর্ণ বেআইনি” বলে আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সরাসরি রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে। একই সাথে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, “রাজ্য কি তার নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধ নয়?” সুরাট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এসএমসি) কর্তৃক ঘরহারা হওয়া বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দার দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি নিখিল কারিয়েল রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের চেয়েও অনেক উচ্চপদস্থ ও প্রবীণ কোনো আধিকারিককে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করানো উচিত ছিল।

আদালতে পেশ করা হলফনামায় সুরাটের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার স্বীকার করেছেন, কর্পোরেশনের ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের করা প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে—সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সত্যি কথা বলছেন না এবং পুরো বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তাই এই ঘটনায় আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন। উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ৫ জন পুর-আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এই পদক্ষেপের পর রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত বলে, “এটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আধিকারিকদের করা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত মাত্র। এই বিষয়ে খোদ রাজ্য সরকারের অবস্থান কী? এত বড় মাপের একটি ধ্বংসযজ্ঞ বা উচ্ছেদ ঘটে গেল, অথচ রাজ্য সরকারের কোনো হেলদোল নেই? রাজ্যে ছোটখাটো কোনো ঝামেলা হলেই সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, আর এখানে ১০০টি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হলো আর সরকার জানতেও চাইল না এটা কীভাবে ঘটল?”

উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে একজন ডিসিপি (DCP) পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো এফআইআর বা পুলিশি তদন্ত শুরু হলো না, তা নিয়ে সুরাটের পুলিশ কমিশনারকে মৌখিকভাবে তীব্র জেরা করে হাইকোর্ট। এমনকি লিখিতভাবে জানানোর পরও পুলিশ কেন হাত গুটিয়ে বসে রইল, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, “কারও ঘরবাড়ি বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়া কি ফৌজদারি অপরাধ নয়? যা ঘটেছে তা যে বেআইনি, সেটা পুলিশের সবার আগে বোঝা উচিত ছিল। এই মামলায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের বিষয়। কিন্তু তদন্ত কোথায়? তদন্তে যত দেরি হবে, ততই মানুষের কাছে বার্তা যাবে যে এই অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বিচারপতি নিখিল কারিয়েল উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। আপনাদের আধিকারিকদের যদি এত বড় দুঃসাহস থাকে যে তারা নোটিশ ছাড়াই ১০০টি বাড়ি ভেঙে দিতে পারে—তাহলে ঈশ্বরই জানেন লোকচক্ষুর আড়ালে আপনারা এ যাবৎকাল আর কত কী করে বসে আছেন যা এখনও সামনে আসেনি।” সবশেষে, এই “অননুমোদিত উচ্ছেদের” কারণে যে সমস্ত মানুষ রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের কীভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হবে, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “এখন যখন প্রমাণিত যে এই উচ্ছেদ সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল, তখন এই মানুষদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায় আপনাদের। হয় নতুন বাড়ি তৈরি করে, না হলে বেসরকারি আলোচনার মাধ্যমে—যেভাবেই হোক এই মানুষদের উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতেই হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!