ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: নিট (NEET) ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় লাগাতার প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আলটিমেটাম দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তথা তরুণ আন্দোলনের মুখ অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী শনিবার অর্থাৎ ১৩ জুনের মধ্যে যদি শিক্ষামন্ত্রী নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ না করেন, তবে এই আন্দোলন আর শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও প্রধান শহরগুলিতে। গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র ডাকে আয়োজিত বিশাল ছাত্র সমাবেশের পর, রবিবার রাতে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে এই হুঁশিয়ারি দেন দিপকে।
ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম যে ধর্মেন্দ্র প্রধান ১৩ জুনের মধ্যে ইস্তফা না দিলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে। সেই পথেই, যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে যাব এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ গড়ে তুলব।” তিনি দিল্লির পরবর্তী দফার আন্দোলনের রূপরেখাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। দিপকে জানান, বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের পরেও যদি শিক্ষামন্ত্রীর কোনো হেলদোল না হয়, তবে দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী আবার নতুন দিল্লিতে এসে জমায়েত হবেন এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে মহাসমাবেশ করবেন। তিনি যোগ করেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। দেশের ১ কোটিরও বেশি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট করার দায় তাঁকে নিতেই হবে।”
দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিৎ দিপকেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—প্রতিবেশী দেশগুলিতে যেভাবে জেন-জে বা তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে ‘বিপ্লব’ বা ক্ষমতার উলটপুরাণ ঘটেছে, ভারতেও কি তেমন কিছু হতে চলেছে? জবাবে দিপকে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সাথে তাঁদের আন্দোলনের তুলনাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলনকে যারা প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে তুলনা করছেন, তাঁদের জানা উচিত যে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ অত্যন্ত জনবহুল হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। ভারতের একটি নিজস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংবিধান রয়েছে। একটি মহল থেকে প্রচার করা হচ্ছে যে আমরা দেশে তাণ্ডব চালাতে চাই, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের আগামী দিনের আন্দোলন আরও বড় হবে, তবে তা পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ পথেই চলবে।”
চলতি বছরের মে মাসে নেটমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচার হিসেবে জন্ম নেওয়া এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ অত্যন্ত দ্রুত তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কেবল ইনস্টাগ্রামেই এই পেজের অনুগামীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লক্ষ (২২ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। অভিজিৎ দিপকে দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, এই সংগঠনটি শুধুমাত্র ‘জেন-জে’ অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের জন্য এবং এটি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হবে না বা কোনো দলের হাত ধরবে না। উল্লেখ্য, গত শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপি-র সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার পড়ুয়া মুখে ‘ককরোচ মাস্ক’ বা আরশোলার মুখোশ পরে অভিনব প্রতিবাদ জানান। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবির পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা শাসক দল বিজেপির উদ্দেশ্যে “হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি বন্ধ করার” স্লোগান তোলেন এবং “ভারত মাতা কি জয়” ধ্বনিতে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই তরুণদের লড়াই আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে কী মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
