ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র পারদ চড়ল। কংগ্রেসের একমাত্র রাজ্যসভার প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন পত্র নির্বাচনী আধিকারিক বা রিটার্নিং অফিসার বাতিল করে দেওয়ার পর, সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের কাছে এই বিষয়ে একটি জরুরি শুনানির আবেদন জানায় হাত শিবির।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা (৮ জুন) পেরিয়ে যাওয়ার পর এই বাতিলের সিদ্ধান্ত আসায় চরম সংকটে পড়েছে কংগ্রেস। কারণ, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশ থেকে আর কোনো বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর সুযোগ নেই দলটির কাছে। ফলে মীনাক্ষীর মনোনয়ন পুরোপুরি খারিজ হয়ে গেলে রাজ্যসভার এই আসনটি কার্যত বিনা লড়াইয়ে হাতছাড়া হবে কংগ্রেসের। নিয়মমাফিক স্ক্রুটিনির সময় শাসক দল বিজেপির তোলা এক আপত্তির ওপর ভিত্তি করেই মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। বিজেপির অভিযোগ ছিল, মীনাক্ষী নটরাজন তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় তেলেঙ্গানার একটি আইনি মামলার তথ্য গোপন করেছেন।
মনোনয়ন বাতিল হতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজন। পুরো ঘটনাটিকে একটি “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, গতকাল রিটার্নিং অফিসাররা আপস করেছিলেন। তাঁরা নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে বর্তমান সরকারের মুখপাত্র এবং ফ্রন্টাল সংগঠনের প্রধানের মতো আচরণ করছিলেন। আমার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, ওটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ ছিল।”
কংগ্রেসের আইনি সেলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ অভিষেক মনু সিংভির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নতুন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সাথে দেখা করে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। কংগ্রেসের স্পষ্ট যুক্তি, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী হলফনামায় কেবল রেজিস্টার্ড ফৌজদারি মামলার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু মীনাক্ষী নটরাজনের নাম কোনো এফআইআর-এ অভিযুক্ত হিসেবে নেই, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলাও রুজু হয়নি। তাই হলফনামায় এই বিষয়ের উল্লেখ করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে এই “সম্পূর্ণ বেআইনি ও পক্ষপাতদুষ্ট” নির্দেশ অবিলম্বে খারিজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের আইনি বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেস কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একই সাথে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশন এই জট কীভাবে কাটায়, তার ওপরেই নির্ভর করছে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের রাজ্যসভা আসনের ভবিষ্যৎ।
