TOP NEWS

“মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরানোই লক্ষ্য”, ডোমকলের প্রথম জনসভা থেকে হুঙ্কার হুমায়ুন কবীরের

(ডোমকল জনকল্যাণ মাঠের জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর। || নিজস্ব চিত্র)

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: ডোমকলের জনকল্যাণ মাঠে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রথম জনসভা করলেন দলের প্রধান হুমায়ুন কবীর। ১৯৮২ সালে এই মাঠ থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। এদিনের সভায় তাঁর নিশানায় ছিলেন একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে তাঁর প্রাক্তন রাজনৈতিক সতীর্থ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শনিবার ডোমকলের জনকল্যাণ মাঠে আয়োজিত এক সভায় নিজের রাজনৈতিক সফরের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণ ও বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ ও বঞ্চনার অভিযোগ

হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে মাদ্রাসার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও মুসলিম সমাজের জন্য কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিনি বলেন, “মুসলিমদের ভোট নিয়ে তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আজ তাঁদের সঙ্গেই বৈষম্য করা হচ্ছে। যারা তাঁকে ভোট দেয়, সেই মুসলিমদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১০০০ টাকা দেওয়া হয়, আর অন্যদের দেওয়া হয় ১২০০ টাকা।” বিধান রায়ের আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিধান রায় মানুষের মুখ দেখে সমস্যা বুঝতেন, আর সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে কম মুসলিম জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিধি সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। অথচ বর্তমান সরকার কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই মাইনরিটিদের ব্যবহার করছে।”

অধীর চৌধুরী ও মন্ত্রিত্ব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

অধীর চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ হিসেবে হুমায়ুন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, অধীর চৌধুরীর স্ত্রী মুসলিমদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যার প্রতিবাদে তিনি কংগ্রেস ছাড়েন। একইসঙ্গে ২০১২ সালে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাকা হলেও দেওয়া হয়েছিল ‘গরু-ছাগল তাড়ানোর কাজ’ অর্থাৎ মাইনরিটি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর পদ।” তাঁর আরও অভিযোগ, রেজিনগর নির্বাচনে তাঁকে হারাতে অধীর চৌধুরী হিন্দু এলাকায় গিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ‘কসাইখানা’ খোলার মিথ্যে রটনা করেছিলেন।

বিজেপি ও যোগী আদিত্যনাথ প্রসঙ্গে নীরবতা

বিজেপি বিরোধী লড়াই নিয়ে তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “২০২৪ সালে যখন যোগী আদিত্যনাথ মুসলিমদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের কেউ প্রতিবাদ জানায়নি। আমিই একমাত্র প্রতিবাদ করেছিলাম। মমতার একমাত্র কাজ হলো বিজেপি-র ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা।”

জনসভার শেষে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর নতুন দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘শায়েস্তা’ করা এবং মাইনরিটিদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!