TOP NEWS

“প্রযুক্তি হোক মানবতার কল্যাণে”: ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ১১ বছরে দেশবাসীকে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: আজ থেকে ঠিক ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালের আজকের দিনেই দেশজুড়ে পথ চলা শুরু করেছিল ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ (Digital India) মিশন। এই বিশেষ দিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, গত ১১ বছরে এই কর্মসূচি ভারতের শাসনব্যবস্থার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে, সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়ন করেছে এবং দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া আজ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনের কোনো না কোনো অংশকে স্পর্শ করেছে। ক্যাশলেস বা নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট, সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান পাঠানো (DBT) এবং দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার-এর ব্যাপক সম্প্রসারণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার হাত ধরে দেশে যে উদ্ভাবনের জোয়ার এসেছে, তা আজ কেবল বড় শহরগুলিতে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম এবং টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলিতেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের তরুণ উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপগুলি আজ এই ডিজিটাল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধান তৈরি করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, বাণিজ্য এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রগুলি অনেক বেশি স্বচ্ছ, দক্ষ এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

ভবিষ্যতের প্রযুক্তির রূপরেখা টেনে নরেন্দ্র মোদী জানান, ভারত এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পাশাপাশি, সরকারের সঠিক নীতির কারণে দেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে, বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে দেশে যেখানে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা, তা ২০২৬ সালের মার্চ মাস নাগাদ এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকায়। এই বিপুল অগ্রগতির কারণেই ভারত আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী দিনের লক্ষ্য স্থির করে বলেন, “আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা, যেখানে প্রযুক্তি মানবজাতির কল্যাণে কাজ করবে, প্রতিটি নাগরিককে স্বাবলম্বী করবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়নকে চালিত করবে।” উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১ জুলাই ব্রডব্যান্ড পরিকাঠামো, সর্বজনীন মোবাইল সংযোগ, ই-গভর্নেন্স সংস্কার এবং দেশীয় স্তরে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনসহ মোট নয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। আজ ১১ বছর পর, এই প্রকল্প বিশ্বমঞ্চে ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের এক রোল মডেল হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!