TOP NEWS

নাবালিকা ধর্ষণে আসারামের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখল রাজস্থান হাইকোর্ট

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার মামলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল রাজস্থান হাইকোর্ট। বুধবার হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চ আসারামের দায়ের করা আবেদন খারিজ করে এই রায় দেয়। একই সাথে, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন চিকিৎসার জামিনে বাইরে থাকা আসারামকে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি অরুণ মোঙ্গা এবং বিচারপতি যোগেন্দ্র কুমার পুরোহিতের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৮ সালের নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রাখলেও, এই মামলার অন্য দুই সহ-অভিযুক্ত শিল্পী এবং শরৎচন্দ্রকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দিয়েছে।

জানা যায়, মামলাটি ২০১৩ সালের অগস্ট মাসের। যোধপুরে আসারামের নিজস্ব আশ্রমে পাঠরতা এক নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই বছরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যোধপুরের একটি বিশেষ পকসো আদালত আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে রাজস্থান হাইকোর্টে এই আপিল মামলার শুনানি হয়। গত ২০ এপ্রিল আদালত তার রায় সংরক্ষিত রাখার পর আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।

শুনানি চলাকালীন আসারামের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং নির্যাতিতার বাবা-মায়ের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। ঘটনার রাতে আসারামের সাথে ওই নাবালিকার যোগাযোগের কোনও কল রেকর্ড প্রমাণ নেই। একই প্রমাণের ভিত্তিতে যেহেতু অন্য সহ-অভিযুক্তদের খালাস দেওয়া হচ্ছে, তাই আসারামকেও রেহাই দেওয়া উচিত। পাল্টা যুক্তিতে সরকারি আইনজীবী এবং নির্যাতিতার কাউন্সেল আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন, পকসো আইনের অধীনে কেবল মাত্র নির্যাতিতার বয়ান বা সাক্ষ্যই একজন অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে— সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রায়ে এই নীতিকে বারবার বহাল রেখেছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, এই মামলার সাথে যুক্ত একাধিক সাক্ষীর ওপর অতীতে হামলা চালানো হয়েছে এবং কয়েকজন সাক্ষীকে খুনও করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার মরিয়া চেষ্টা ছিল। প্রসঙ্গত, আসারাম বাপু কেবল যোধপুরের এই মামলাই নয়, গুজরাতের গান্ধীনগরের একটি আশ্রমে এক মহিলা ভক্তকে ধর্ষণের মামলাতেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে গান্ধীনগর আদালত তাঁকে সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!