TOP NEWS

২০২৬-২৭ কেন্দ্রীয় বাজেট: কর্মসংস্থান ও রাজ্যের দাবি উপেক্ষিত, দেশজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ল বিরোধীরা

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘দিশাহীন’ ও ‘বিমাতৃসুলভ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল দেশের বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, বামপন্থী এবং একাধিক আঞ্চলিক দলের দাবি— এই বাজেট সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আঘাত করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ও রাজ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদাম্বরম সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এই বাজেট ‘অর্থনৈতিক রণকৌশলের পরীক্ষায় ফেল করেছে’। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অর্থমন্ত্রী কি আদেও ২০২৫-২৬-এর অর্থনৈতিক সমীক্ষা পড়েছেন? তাঁর মতে, সরকার সমীক্ষার তথ্য উপেক্ষা করে কেবল ‘অ্যাক্রোনিম’ বা নামসর্বস্ব প্রকল্পের ঘোষণা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। চিদাম্বরম উল্লেখ করেন, আমেরিকার শুল্ক নীতির কারণে রপ্তানিকারকদের সংকট। চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি। বেসরকারি বিনিয়োগে অনীহা এবং কর্মসংস্থানের বেহাল দশা। ‘জল জীবন মিশন’-এর মতো প্রকল্পে বরাদ্দ ৬৭,০০০ কোটি থেকে কমিয়ে ১৭,০০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা।

রাহুল গান্ধী সোশাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন, এই বাজেট কর্মহীন যুবক, ধুঁকতে থাকা উৎপাদন শিল্প এবং সংকটে থাকা কৃষকদের প্রতি ‘অন্ধ’। অন্যদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মতে, মোদী সরকারের কাছে দেশ পরিচালনার আর কোনো নতুন পরিকল্পনা নেই।

আঞ্চলিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও বঞ্চনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে ‘বিমাতৃসুলভ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে কেন্দ্র আবাসন যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের বকেয়া আটকে রেখেছে, আর এখন বাজেটেও বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করের ভাগ ৪১% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার দাবি কেন্দ্র মানেনি, যার ফলে তামিলনাড়ু বছরে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা হারাবে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন অভিযোগ করেছেন, এই বাজেট কেবল কর্পোরেটদের পকেট ভরার জন্য। অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে দাবি করেছেন, দেশের ভাঁড়ারে সবথেকে বেশি অবদান রাখা মহারাষ্ট্রকেই সবথেকে বেশি উপেক্ষা করা হয়েছে। তেলেঙ্গানার উপ-মুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক এবং ওডিশার বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়কও নিজ নিজ রাজ্যের পরিকাঠামো ও সেমিকন্ডাক্টর হাবের মতো প্রকল্পে বরাদ্দের অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন।

সিপিআই(এম) এবং সিপিআই এই বাজেটকে ‘জনবিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বিরোধী’ বলে চিহ্নিত করেছে। তাদের দাবি, পিএম পোষণ (PM POSHAN), পিএম আবাস যোজনা এবং তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে ধনিক শ্রেণিকে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাম নেতাদের মতে, এই বাজেট সাধারণ মানুষের দুর্দশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার একটি ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’। বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত সুর বলছে, ২০২৬-২৭-এর এই বাজেট কেবল সংখ্যাতত্ত্বের খেলা। গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ এই বাজেট দেশের বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!