ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত এবার পৌঁছাল দেশের শীর্ষ আদালতে। নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যে চলমান ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চলেছে তৃণমূলের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তার আগেই এই বড় আইনি পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ঠিক আগে এই আইনি লড়াই কমিশন ও তৃণমূল সরকারের টানাপোড়েনকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল। শনিবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে (CEC) নিজের ষষ্ঠ চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি এই সংশোধন প্রক্রিয়ার পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কড়া আপত্তি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং অত্যধিক কাজের চাপে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে (যার মধ্যে সাধারণ নাগরিক ও বিএলও-রা রয়েছেন)। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং নির্ধারিত নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে এই কাজ চালানো হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই ‘খামখেয়ালি’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার এই প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্যে ৮,১০০ জন ‘মাইক্রো-অবজারভার’ নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই মাইক্রো-অবজারভারদের কোনো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নেই এবং আইনত এই ধরণের পদের কোনো উল্লেখ নেই। ৫ম চিঠিতে মমতা লেখেন, “কমিশনের উদ্দেশ্য সংশোধন বা অন্তর্ভুক্তি নয়, বরং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে বাদ দেওয়া।” সূত্র জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হতে পারে। এছাড়া আগামী বুধবার তৃণমূল সাংসদদের দায়ের করা একটি সমগোত্রীয় মামলারও শুনানির কথা রয়েছে।
