ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: জাতপাতের চরম অমানবিক রূপ দেখল উত্তরাখণ্ডের টিহরি গাড়োয়াল জেলা। এক উচ্চবর্ণের নাবালিকা মেয়ের সাথে বন্ধুত্বের ‘অপরাধে’ ১৮ বছর বয়সী এক দলিত যুবককে ঘরবন্দি করে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল মেয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় মৃতের এক বন্ধুও গুরুতর জখম হয়েছেন। জাতপাতের হিংসার ঘটনাটি ঘটেছে টিহরি গাড়োয়ালের প্রতাপনগর ব্লকের খোলগড় গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের নাম কেতন লাল। সে দেবাল গ্রামের বাসিন্দা ছিল। এই ঘটনায় গুরুতর আহত তার বন্ধু দিওাকর ডিমরিকে বাউরারির জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত কেতনের বাবা ধনপাল লালের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, গত রবিবার (৭ জুন) রাত ১১টা নাগাদ খোলগড় গ্রামের ওই নাবালিকা মেয়েটি কেতনকে ফোন করে তার গ্রামে আসতে বলে। বিগত ছয় মাস ধরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। মেয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে বন্ধু দিওাকর ডিমরিকে সাথে নিয়ে বাইকে করে খোলগড় গ্রামে পৌঁছায় কেতন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোমাত্রই ওত পেতে থাকা মেয়ের পরিবারের সদস্যরা দুই বন্ধুকে ধরে ফেলে। এরপর তাঁদের একটি ঘরের ভেতর আটকে রেখে লাঠি ও রড দিয়ে নৃশংসভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
সোমবার সকালে অভিযুক্ত মেয়ের বাবা স্বয়ং কেতনের বাবা ধনপাল লালকে ফোন করে জানান যে তাঁর ছেলে গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে যেন এসে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে ধনপাল লাল দ্রুত ওই গ্রামে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত ও প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁকে তড়িঘড়ি চৌন্দ লামগাঁওয়ের একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা কেতনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় দলিত সমাজ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে উত্তেজিত জনতা ও নিহতের পরিবার প্রথমে হাসপাতাল থেকে কেতনের দেহ নিতে অস্বীকার করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। টিহরি গাড়োয়ালের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ শ্বেতা চৌবে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করার পাশাপাশি অত্যন্ত কঠোর ‘এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, যশবীর সিং পনওয়ারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গ্রামে নতুন করে যাতে কোনো জাতিগত সংঘর্ষ না ঘটে, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
