ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মোদির রাজ্য গুজরাটের উধনা রেল স্টেশনে গত ২৪ ঘণ্টায় দেখা গেল দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। একদিকে যখন বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশাগামী শ্রমিকদের ভিড়ে স্টেশনে চরম বিশৃঙ্খলা ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটল, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পরেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে দিতে বাংলার পথে রওনা দিলেন প্রায় ১,৩০০ যাত্রী। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ‘পরিবর্তনের’ পক্ষে ভোট দেওয়ার লক্ষ্যে বিজেপি সমর্থকদের জন্য এই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, রবিবার সকাল থেকেই উধনা স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশাগামী ট্রেন ধরার জন্য ভিড় জমান। এই ভিড়ের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ— গরমের ছুটি, বিয়ের মরসুম এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সুরাটের হিরে ও টেক্সটাইল শিল্পে মন্দা। এছাড়া রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটও শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে বাধ্য করছে। ভিড় সামলাতে না পেরে রেল পুলিশ লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড ভেঙে যাত্রীদের দৌড়ঝাঁপ এবং আতঙ্কে স্টেশনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা শরদ জাগাড়ে অভিযোগ করেন, “সাধারণ মানুষ যখন যাতায়াতের ন্যূনতম সুবিধা পাচ্ছে না, তখন এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” তাঁর কথায়, একদিকে সাধারণ পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার চরম হাহাকার, আর অন্যদিকে সুপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সমর্থকদের ভিন রাজ্যে পাঠানোর তোড়জোড়। এটাই গেরুয়া শিবিরের আসল রুপ।
ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই একই স্টেশনের চিত্র বদলে যায়। অত্যন্ত স্বাভাবিক ছন্দে একটি বিশেষ এসি ট্রেনে চড়ে বাংলার উদ্দেশে রওনা দেন ১,৩০০ যাত্রী। হাতে তেরঙা পতাকা এবং মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিয়ে তাঁরা স্টেশনে প্রবেশ করেন। সূত্রের খবর, সুরাটের বিভিন্ন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন এই যাত্রীদের যাতায়াতের খরচ বহন করছে। এরা মূলত সুরাটে কর্মরত প্রবাসী বাঙালি শ্রমিক, যাঁদের বেছে বেছে রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ‘পরিবর্তনের’ পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। জানা গেছে, বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৫,০০০ এমন সমর্থককে আগামী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে বাংলায় পাঠানো হবে।
পশ্চিম রেলের জেনারেল ম্যানেজার রামআশ্রয় পাণ্ডে অবশ্য বিশৃঙ্খলার দায় গুজব রটনাকারীদের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেলা সাড়ে ১১টার পর কোনো ট্রেন নেই বলে একটি গুজব ছড়িয়েছিল, যার ফলে এই হুড়োহুড়ি। ট্রেনের কোনো ঘাটতি নেই।” তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ শ্রমিকদের হয়রানি এবং নির্দিষ্ট একটি দলের সমর্থকদের জন্য বিশেষ ট্রেনের সুবিধা দেওয়ার এই বৈপরীত্য ভোটের মুখে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে আরও এমন ট্রেন সুরাট থেকে বাংলার পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সুরাটের এই দুই ভিন্ন চিত্র কেন্দ্রের পক্ষপাতদুস্ট আচরণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
