ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের মেগা লড়াইয়ের দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল নির্বাচন সংক্রান্ত নজরদারি সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (ADR)। সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়াই করা প্রার্থীদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে খুনের চেষ্টা ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। পাশাপাশি, প্রার্থীদের বিষয়-আশয়ের নিরিখেও লড়াই হচ্ছে সেয়ানে সেয়ানে। ২২ শতাংশ প্রার্থীই কোটিপতি হওয়ার তকমা পকেটে নিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।
দ্বিতীয় দফার মোট ১,৪৪৫ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে ADR জানিয়েছে, ৩৩৮ জন (২৩ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৯৫ জন (২০ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। ১৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। ৮০ জন প্রার্থী খুনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত।
অপরাধমূলক মামলার নিরিখে প্রথম সারিতে রয়েছে বিজেপি। তাদের বিশ্লেষণ করা ১৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০২ জন (৭২ শতাংশ) ফৌজদারি মামলার কথা জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪২ জনের মধ্যে ৪৯ জন (৩৫ শতাংশ), সিপিআই(এম)-এর ১০০ জনের মধ্যে ৫১ জন (৫১ শতাংশ) এবং কংগ্রেসের ১৪২ জনের মধ্যে ৩৭ জন (২৬ শতাংশ) প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি (৪৪ শতাংশ) কেন্দ্রকে “রেড অ্যালার্ট” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে তিন বা তার বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বিত্তবান প্রার্থীদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ১,৪৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২১ জন (২২ শতাংশ) কোটিপতি। এডিআর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে তৃণমূলের ৭৩ শতাংশ প্রার্থীর। বিজেপির ক্ষেত্রে এই হার ৫২ শতাংশ, সিপিআই(এম)-এর ৩৩ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ২৫ শতাংশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.২১ কোটি টাকা।
২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল— দুই দফায় আয়োজিত হবে ভোটগ্রহণ। বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে, ফলাফল ঘোষণার দিন। ADR-এর এই রিপোর্ট জনসমক্ষে আসতেই ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। গণতন্ত্রের এই উৎসবে মানুষ অপরাধমুক্ত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীকে বেছে নেবেন না কি রাজনীতির চিরাচরিত সমীকরণ বজায় থাকবে, সেটাই এখন দেখার।
