নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: কড়া নিরাপত্তা আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারির মধ্যেই ভোটের রাতে রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের ডোমকল। বুধবার রাতে ডোমকল থানার রায়পুর কাটাকোপরা এলাকায় তৃণমূল ও সিপিআইএম কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অশান্ত হয়ে উঠল রায়পুর এলাকা। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মোট চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে রায়পুর এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং প্রচার চালানোকে কেন্দ্র করে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বিবাদ হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দু’পক্ষ। এই সংঘর্ষে সিপিআইএমের দুই কর্মী, ২৮ বছর বয়সী রাকিবুল আনসারী এবং ৫২ বছর বয়সী মহাবুল আনসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। মহাবুল আনসারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের আমিরুদ্দিন মন্ডল (৫২) এবং আলামিন মন্ডল (২৩) জখম হয়েছেন। আহতরা সকলেই রায়পুর কাটাকোপরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, বুধবার রাতে তাঁরা গ্রামের ভোটারদের অভয় দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা সিপিআইএম কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। আহত তৃণমূল কর্মী আমিরুদ্দিন জানান, “গ্রামের মোড়ে চিৎকার শুনে আমি গণ্ডগোল থামাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখা মাত্রই সিপিআইএম-এর ৩-৪ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে।” পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছে বাম শিবিরও। গুরুতর জখম সিপিআইএম কর্মী মহাবুল আনসারীর দাবি, “আমরা ভোটারদের সকাল সকাল বুথে যাওয়ার কথা বলছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন চড়াও হয়। নিশ্চিত হার জেনে শাসকদল এলাকায় অশান্তি পাকাচ্ছে।”
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ডোমকল থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আহত তৃণমূল কর্মী আলামিন মন্ডলকে আটক করা হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। এদিকে এলাকায় নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটের রাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।
