নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় নজিরবিহীন ভোটদানের সাক্ষী থাকল নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বুথে বুথে যে জনজোয়ার দেখা গিয়েছিল, বিকেল গড়াতেই তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জেলা নির্বাচন দফতর সূত্রে পাওয়া সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জেলার অধিকাংশ আসনেই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা সাম্প্রতিক কালের নির্বাচনে নজিরবিহীন।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে রঘুনাথগঞ্জ কেন্দ্রে (৯৫.৬৪%)। ঠিক তার পরেই রয়েছে সামশেরগঞ্জ (৯৫.৩৪%) এবং ভগবানগোলা (৯৫.৩১%)। এছাড়া ফরাক্কা, সুতি ও লালগোলার মতো কেন্দ্রগুলোতেও ভোটদানের হার ৯৫ শতাংশের আশেপাশে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ডোমকল ৯১.৬০%, জলঙ্গি ৯২.৩২%, বহরমপুর ৮৯.৬০%, বেলডাঙ্গা ৯১.০০%, সাগরদিঘি ৯২.৭৯%, জঙ্গিপুর ৯৩.৯৬%, সাগরদিঘী ৯২.৭৯, মুর্শিদাবাদ ৯১.৫%, নবগ্রাম ৮৮.৮৩%, খড়গ্রাম ৮৭.০৯%, বড়ঞা ৮৬.৯৮%, কান্দি ৮৩.৭৪%, ভরতপুর ৮৭.২৫%, রেজিনগর ৮৯.৯২%, বেলডাঙা ৯১%, বহরমপুর ৮৯.৬%, হরিহরপাড়া ৯১.৮১% ও নওদা ৯১.৭৩%। সামগ্রিকভাবে জেলার গড় ভোটদান ৯০ শতাংশের বেশি হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এই হার আরও কিছুটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মুর্শিদাবাদের নির্বাচন মানেই যে অশান্তি ও আতঙ্কের পরিবেশ থাকত, এবারের চিত্র ছিল তার ঠিক উল্টো। সাঁজোয়া গাড়ির টহল আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে মানুষ নির্ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের এক বড় অংশ ভোট দিতে ভিনরাজ্য থেকে জেলায় ফেরায় ভোটদানের হার এমন আকাশছোঁয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই বিপুল ভোটদানকে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই নিজেদের অনুকূলে বলে দাবি করছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ এভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, মানুষ পরিবর্তনের আশায় জোটবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। মুর্শিদাবাদের এই ‘ভোট বিপ্লব’ শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য নির্ধারণ করে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে। তবে আপাতত শান্তিপূর্ণভাবে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে বুথমুখী করতে পারা প্রশাসনের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
