নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: এক সময়ের ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ডোমকল কি তবে তার পুরনো মেজাজেই ফিরল? সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতেই ডোমকলের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড়সড় ওলটপালটের ছবি ধরা পড়ল। তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান রানা। আর এই জয়ের খবর চাউর হতেই একদিকে যখন বাম শিবিরে অকাল হোলি শুরু হয়েছে, তখন অন্যদিকে ডোমকলের শাসক শিবিরের কার্যালয়গুলোতে দেখা গেল শুধুই স্তব্ধতা আর তালাবন্ধ দরজার ভিড়।
সোমবার সকাল থেকেই ডোমকল গার্লস কলেজ গণনা কেন্দ্রে ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথম রাউন্ড থেকেই এগিয়ে ছিলেন বাম প্রার্থী। বেলা গড়াতেই নির্বাচনী ফলাফলের পাল্লা বাম প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাস্ত করে ডোমকলের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বামপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান রানা।
ডোমকলের জনকল্যাণ মাঠ সংলগ্ন এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই সারিবদ্ধভাবে রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বামেদের দলীয় কার্যালয়। আজকের ফলাফলের পর সেখানে তিনটি ভিন্ন ছবি দেখা গিয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কার্যালয়ে কর্মীদের আনাগোনা কমতে থাকে। হার নিশ্চিত জেনে আতঙ্ক ঘিরে ধরে তাদের। শেষ পর্যন্ত কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় তৃণমূল ভবনটি। তৃণমূলের মতো কংগ্রেসের কার্যালয়টিও সারাদিন ছিল জনশূন্য ও নিষ্প্রাণ। ঠিক উল্টো ছবি দেখা যায়, পাশের বাম কার্যালয়ে। জয়ের খবর আসতেই লালে লাল হয়ে ওঠে এলাকা। কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে জনকল্যাণ মাঠ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একে অপরকে লাল আবির মাখিয়ে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন তাঁরা।

ডোমকলের এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বামেদের কটাক্ষ, তৃণমূল জনসমর্থন হারিয়েছে এবং মানুষের রায়ের ভয়েই আজ তারা দলীয় কার্যালয় ছেড়ে পালিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাম নেতার কথায়, “মানুষের জয় হয়েছে, সন্ত্রাসের পরাজয় হয়েছে। তাই ভয়ে আজ ওদের কার্যালয়ে তালা পড়ছে।” যদিও এনিয়ে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে আজকের দিনটি যে ডোমকলে বামেদের পুনরুত্থানের সাক্ষী হয়ে রইল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
