TOP NEWS

‘আর্থিক বয়কট’: মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে এবার নিজের জিম হারানোর মুখে ‘মহম্মদ দীপক’

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: এক বৃদ্ধ মুসলিম দোকানিকে হেনস্থার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের জিম ট্রেনার দীপক কুমার। সেই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ‘মহম্মদ দীপক’ নামে পরিচিতি পান। সমাজে এক অনন্য মানবিকতার নজির গড়া সেই ৩৮ বছর বয়সী দীপক আজ এক চরম সংকটের মুখোমুখি। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং ‘আর্থিক বয়কটের’ জেরে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা জিমটিই এবার হারাতে বসেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি একটি ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক ভাইরাল হয়েছিল। পার্কিন্সন্স রোগে আক্রান্ত এক ৭০ বছর বয়সী মুসলিম দোকানদারকে একদল যুবক ঘিরে ধরে হেনস্থা করছিল। তাদের দাবি ছিল, ওই বৃদ্ধকে তাঁর দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। অন্যায় দেখে চুপ থাকতে পারেননি দীপক। তিনি মাঝপথে এসে যুবকদের বাধা দেন এবং বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ান। উত্তেজিত দলটি যখন দীপকের নাম জিজ্ঞাসা করে, তখন তিনি সাহসের সাথে উত্তর দেন, “আমার নাম মহম্মদ দীপক।” এই প্রতিবাদের ভিডিও ভাইরাল হতেই রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসেন তিনি। কিন্তু একই সাথে তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ৩১ জানুয়ারি বজরং দলের একদল সদস্য দীপককে হেনস্থা করতে চড়াও হলে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই ঘটনার পর দীপকের জিমের ওপর নেমে আসে অলিখিত সামাজিক বয়কট। সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার জেরে জিমের সদস্য সংখ্যা এক ধাক্কায় ১৫০ থেকে কমে মাত্র ১৫ জনে গিয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে আইনজীবী মহলসহ সমাজের বহু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ দীপকের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। এই আন্দোলনের ফলে জিমের দৈনিক সদস্য সংখ্যা পুনরায় প্রায় ৭০-এ পৌঁছালেও, মাঝখানের বড় আর্থিক ক্ষতি তিনি সামাল দিতে পারেননি।

জানা গিয়েছে, জিমের মাসিক ভাড়া ৪০,০০০ টাকা। টানা চার মাস এই ভাড়া মেটাতে না পারায় এবার বাড়িওয়ালা তাঁকে জিম খালি করার নোটিশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি নিজের বাড়ি তৈরির জন্য নেওয়া ঋণের ইএমআই এবং সন্তানের স্কুলের ফি মেটাতে গিয়ে জিমের বকেয়া ভাড়া আর দিতে পারেননি দীপক। এক সংবাদমাধ্যমকে হতাশা প্রকাশ করে দীপক বলেন, “পরিস্থিতি একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছিল, প্রতিদিন প্রায় ৭০ জন করে মানুষ আসছিলেন। কিন্তু চার মাস ভাড়া বাকি পড়ায় বাড়িওয়ালা আমাকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন। তিনি আকারে-ইঙ্গিতে আমাকে এও বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমি ‘মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছি’ বলেই তিনি আর আমাকে দোকান ঘরটি ভাড়া দিতে চান না।” ন্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একজন সাধারণ যুবকের জীবিকা আজ যেভাবে বিপন্ন, তা দেশের বর্তমান সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার এক চিত্র তুলে ধরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!