ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি করা নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের তদন্তের গতি বাড়াল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। প্রশ্ন ফাঁসের এই চক্র বা র্যাকেট চালিয়ে যে বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন করা হয়েছিল, তা দিয়ে একাধিক সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। এই আর্থিক দুর্নীতির উৎস খুঁজতে এখন মূল অভিযুক্তদের সম্পত্তি এবং সমস্ত ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখছে সিবিআই। তদন্তকারীদের অনুমান, চলতি বছরের প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে ধৃত ব্যক্তিরা আদতে ২০২৪ সালের নিট-ইউজি প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডের সাথেও যুক্ত ছিলেন। একই অপরাধী সিন্ডিকেট বিগত কয়েক বছর ধরে দেশজুড়ে এই প্রশ্ন ফাঁসের নেটওয়ার্কটি সচল রেখেছে কি না, তা-ই এখন তদন্তকারীদের মূল নজরে রয়েছে। একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র এবং রিয়েল এস্টেটে তাঁদের বিনিয়োগের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা পরীক্ষা করতে গিয়ে পুণের বেশ কয়েকজন অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ এখন সিবিআই-এর স্ক্যানারে রয়েছেন।
সূত্রের খবর, সোমবার পুণের দুই নামী শিক্ষিকার বাসভবন ও সংলগ্ন প্রাঙ্গণে নতুন করে তল্লাশি অভিযান চালায় সিবিআই। পুণের একজন উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে ও পুণের একজন পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক মনীষা হাভালদার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের অনুমান, বাজেয়াপ্ত করা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে এই চক্রের পরিচালনা পদ্ধতি বা ‘মোডাস অপারেন্ডি’ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলবে। খুব শীঘ্রই পুণের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
এদিকে পূর্বের একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বারবার কেন এই বিতর্ক মাথা চাড়া দিচ্ছে, তা নিয়ে সোমবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নিট-ইউজি পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় আমূল কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়ে দায়ের করা একগুচ্ছ পিটিশনের শুনানির সময় বিচারপতি পি.এস. নরসিমা এবং বিচারপতি আলোক আরাধের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ কেন্দ্র সরকার ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-কে নোটিশ জারি করেছে।
২০২৬ সালের এই সাম্প্রতিক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর পিটিশনগুলিতে অবিলম্বে কলম-কাগজের পরীক্ষা পদ্ধতি বদলে ‘কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা’ বা অনলাইন পরীক্ষা চালু করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। শুনানির সময় শীর্ষ আদালত উষ্মা প্রকাশ করে মন্তব্য করে, ২০২৪ সালের নজিরবিহীন নিট কেলেঙ্কারি থেকেও শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিচারপতি নরসিমার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে বলে, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিগত দিনের বড় বিপর্যয় থেকেও তারা কোনও শিক্ষা নেয়নি।” সুপ্রিম কোর্ট স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০২৪ সালের বিতর্কের পর ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে. রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও পেশ করেছিল, যা সরকার গ্রহণ করে এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একটি নজরদারি কমিটিও গঠন করা হয়। আদালত এখন এনটিএ-কে একটি বিশদ হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানাতে চেয়েছে, রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশগুলি বাস্তবায়নের বর্তমান স্থিতি কী? ২০২৪ সালের নভেম্বরে গঠিত নজরদারি কমিটি কীভাবে কাজ করছে?
একই সাথে অধ্যাপক কে. রাধাকৃষ্ণনকেও একটি পৃথক হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। যাতে তাঁর প্যানেলের সুপারিশ এবং সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশনাবলী সঠিকভাবে পালন করা হয়েছে কি না, তার খতিয়ান থাকে। ‘ফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্ট’-এর মতো চিকিৎসক সংগঠনগুলির দায়ের করা এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী।
