ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ক্রমবর্ধমান হিংসা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সেখানে চলমান ইবোলা (Ebola) মহামারী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই লাগামহীন হিংসার কারণে আক্রান্তদের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানো এবং মানবিক সহায়তা প্রদান চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, “কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল এখন রোগ এবং যুদ্ধের এক ‘ভয়াবহ সংঘাতের’ মুখোমুখি হয়েছে।”
টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের এই প্রজাতিটি হলো মূলত ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেন’ (Ebola Bundibugyo strain)। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসের এই বিশেষ রূপটির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই মুহূর্তে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনুমোদিত কোনও ভ্যাকসিন (টিকা) বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তার ওপর চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন এবং ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। এর ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গোয়েন্দা ও মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টের বরাত দিয়ে ডব্লিউএইচও (WHO) প্রধান জানান, স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির ওপর অনবরত হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে নতুন আক্রান্তদের চিহ্নিত করা এবং ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চরম জীবনহানির ঝুঁকি নিয়ে প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে কাজ করছেন। যুদ্ধে লিপ্ত সমস্ত পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে টেড্রস বলেন, “যখন মাথার ওপর অনবরত বোমা বর্ষণ হচ্ছে, তখন আমরা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারি না বা অসুস্থ রোগীদের আইসোলেট (বিচ্ছিন্ন) করতে পারি না। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষের জীবন বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতার নেপথ্যে রয়েছে ‘এম২৩’ বিদ্রোহী এবং ‘কোঅপারেটিভ ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব কঙ্গো’-র মতো একাধিক কুখ্যাত সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী। দীর্ঘদিনের জাতিগত ও আঞ্চলিক বিরোধের জেরে এই গোষ্ঠীগুলির তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আফ্রিকা মহাদেশের শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সিডিসি’ আগেই সতর্ক করেছে, কঙ্গোর এই পরিস্থিতির কারণে রুয়ান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং জাম্বিয়াসহ মোট ১০টি দেশ হাই-অ্যালার্ট বা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই মহামারী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এই মুহূর্তে কম হলেও, শহরাঞ্চলে সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
