ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলিকে বারবার নিশানা করেছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ (Shahed) ড্রোন। এবার সেই শাহেদ ড্রোনের প্রযুক্তি ও কার্যকারিতাকে ব্লুপ্রিন্ট বা মডেল হিসেবে ব্যবহার করে সৌদি আরবে এক বিশাল ড্রোন উৎপাদন প্রকল্প শুরু হতে চলেছে। আর এই মেগা প্রজেক্টের নেপথ্যে রয়েছে একটি মার্কিন ডিফেন্স স্টার্টআপ এবং সৌদির এক প্রতিরক্ষা সংস্থা। আমেরিকান ড্রোন প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ভেক্টর ডিফেন্স’ এবং সৌদির স্টার্টআপ ‘এসআর২ ডিফেন্স সিস্টেমস’-এর যৌথ উদ্যোগে রিয়াদের কাছে এই নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট বা কারখানাটি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সেমাফোর (Semafor)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসআর২ভেক্টর’ (SR2Vector)। তারা যে ড্রোনটি তৈরি করতে চলেছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্কাইওয়াস্প’ (SKYWASP)। ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতোই এটি মূলত একমুখী হামলা বা ‘ওয়ান-ওয়ে স্ট্রাইক মিশন’ (সুইসাইড ড্রোন)-এর জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এই ড্রোনের কিছু চোখধাঁধানো বৈশিষ্ট্য হলো— প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার, যা সৌদি আরবের মাটি থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে সামরিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সৌদির প্রতিরোধ ক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া। এই প্রজেক্টের পেছনে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করছে ‘মাসনা ভেঞ্চার্স’ নামক একটি ডিফেন্স-টেকনোলজি ফান্ড। এসআর২ (SR2)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার লুসিয়েন জেইগলার জানিয়েছেন, সৌদির কৌশলগত প্রতিরোধ চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই কারখানায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও বিপুল পরিমাণে ড্রোন তৈরি করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা, কাজ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এবং বিনিয়োগের মোট অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছে। সৌদি আরব ছাড়াও তাদের মিত্র দেশগুলিতে এই ড্রোন সরবরাহ করা হবে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চলেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে চলা এই আকাশপথের হুমকিতে অঞ্চলের নামী হোটেল, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কিছু ড্রোন সেই বাধা ভেদ করতে সফল হয়। ইরানের শাহেদ ড্রোনগুলির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এগুলির অত্যন্ত কম উৎপাদন খরচ। এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ব্যবধানের কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলি এখন সস্তা অথচ মারাত্মক কার্যকর ড্রোনের দিকে ঝুঁকছে। এই বিষয়ে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির ওপরও আগ্রহ বাড়ছে, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এই শাহেদ ঘরানার ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সামরিক অর্থব্যয়কারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব এখনও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট সামরিক হার্ডওয়্যারের অর্ধেক অংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রিয়াদ। এই নতুন ড্রোন প্রকল্প ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, গত বছরই হোয়াইট হাউসে ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনের সাথে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর সৌদি আরবকে আমেরিকার পক্ষ থেকে ‘প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
