ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। উত্তরবঙ্গের একসময়ের ‘ছিদ্রময়’ বা পোরস সীমান্ত এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং গোরু পাচারের আশঙ্কায় দিন কাটানো হাজার হাজার গ্রামবাসীর মধ্যে এই তৎপরতা এক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়া এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করায় স্থানীয় মানুষের মনে নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস দুই-ই বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি জমির ক্ষতিপূরণ এবং সীমান্তের ওপারে থাকা নিজেদের চাষের জমিতে যাতায়াত নিয়ে গ্রামবাসীদের কিছু দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবিও রয়ে গেছে।
বিএসএফ-এর হাতে ১৪২ একর জমি
সীমান্তে বিএসএফ-এর আউটপোস্ট (BOP) এবং স্থায়ী কাঁটাতারের পরিকাঠামো তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জোরদার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক সীমান্ত জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪২.৭৯ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যে সমস্ত জেলাগুলিতে এই জমি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা। শীর্ষ রয়েছে মুর্শিদাবাদ ── ৩৮.৮০৫ একর (সর্বোচ্চ), জলপাইগুড়ি ── ৩৫.১৬৫ একর ও কোচবিহার ── ২২.৯৫ একর। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ও কাঁটাতারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ৬০০ একর সীমান্ত জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার।
শাহের প্রশংসা এবং ‘চিকেন নেক’ প্রসঙ্গ
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ইতিবাচক অগ্রগতির প্রশংসা করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সীমান্ত শক্তিশালী করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা পূরণ করছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করব। শিলিগুড়ির অত্যন্ত সংবেদনশীল করিডোর বা ১২১ হেক্টরের ‘চিকেন নেক’ (Chicken Neck)-এর জমিও এখন ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর ফলে অনুপ্রবেশকারীরা এখন নিজে থেকেই পিছু হটছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার) নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত জেলাগুলিতে ডিটেনশন বা হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলার সীমান্ত জেলাগুলির হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে বর্তমানে ৩৮৬ জন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীকে আটকে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যাটি রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পুলিশ জেলায়। এই বন্দিদের মধ্যে ১৮২ জন পুরুষ, ১০৯ জন মহিলা এবং ৯৫ জন শিশু রয়েছে। বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
