ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কর্মীদের বেতন না দিয়ে এবং কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই আচমকা দপ্তর বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুনের হিনজেওয়াড়ির আইটি সংস্থা ‘থিংক টেকনোলজি ইন্ডিয়া’ (Thynk Technology India)-র বিরুদ্ধে। এর ফলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সদ্য পাস করা তরুণ ও ইন্টার্ন মিলিয়ে প্রায় ৭০০-রও বেশি কর্মী রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বকেয়া বেতন না দেওয়া, চেক বাউন্স এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ইতিমধ্যেই কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী এক ইন্টার্নের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুনের হিনজেওয়াড়ি থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩০ জনেরও বেশি কর্মী ও ইন্টার্ন একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া সিইও-র পাশাপাশি কোম্পানির ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান এবং হিউম্যান রিসোর্স (HR) ম্যানেজারের বিরুদ্ধেও বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, গত এপ্রিল মাস থেকে আচমকাই সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। বহু কর্মী প্রতিদিনের মতো অফিসে এসে দেখেন মূল ফটকে তালা ঝুলছে এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্তাদের ফোন বন্ধ। বকেয়া বেতন তো দূর অস্ত, কর্মীরা তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রও অফিস থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পাননি।
২০২৫ সালে ব্যবসা শুরু করা এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। চাকরি ও ইন্টার্নশিপ দেওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ল্যাপটপ প্রদান ও অনবোর্ডিং প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে ১৫,০০০ টাকা করে ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে বিশ্বাস অর্জনের জন্য কয়েক মাস ঠিকঠাক বেতন ও স্টাইপেন্ড দেওয়া হলেও, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বকেয়া মেটানোর জন্য যে চেকগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও ব্যাংকে বাউন্স করে। অনেক ইন্টার্ন জানিয়েছেন, টাকা জমা দিলেও তাঁদের কোনো ল্যাপটপ বা ট্রেনিং স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়নি।
প্রাক্তন কর্মীদের দাবি, বেতন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে বারবার ‘অভ্যন্তরীণ অডিট’ এবং ‘ফান্ডিং পেতে দেরি’ হওয়ার অজুহাত দেওয়া হচ্ছিল। গত ২০শে এপ্রিল ভুক্তভোগী কর্মীরা পুনে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পাশাপাশি শ্রম দপ্তরের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নতুন নতুন কর্মী নিয়োগ করে তাঁদের থেকে নেওয়া ডিপোজিটের টাকা কোম্পানির দৈনন্দিন খরচ চালানোর কাজে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। গোটা ঘটনার পেছনে বড়সড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কোম্পানির সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র পরীক্ষা শুরু করেছে পুনে পুলিশ।
