TOP NEWS

অনাস্থার দিনক্ষণ ঠিক, অথচ শেষ মুহূর্তে স্থগিত! ডোমকলের পঞ্চায়েত রাজনীতিতে কোন ‘নাটক’?

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে দিনক্ষণ ধার্য করছে প্রশাসন। সদস্যরাও সেই মতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু দিনক্ষণ ঠিক হলেও কখনও বৈঠকের ঘণ্টাকয়েক আগে, কখনও আবার আগের দিন আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে ‘নাটকীয়ভাবে’ স্থগিত করে দেওয়া হচ্ছে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সভাপতি, প্রধান ও উপপ্রধানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা বৈঠক। ডোমকল মহকুমার একাধিক পঞ্চায়েতের পাশাপাশি একটি পঞ্চায়েত সমিতিতেও এমন ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয় পক্ষই এর পিছনে বিজেপির কলকাঠির অভিযোগ তুলেছে।

বোর্ড গঠনের বছর কয়েকের মধ্যেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে সভাপতি , প্রধান, উপপ্রধানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হতে শুরু করে। আর তাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় তৃণমূলকে। দল ভাঙিয়ে বোর্ড দখলের রাজনীতির জেরে কোন্দল চরমে পৌঁছায়। এমনকি চলতি বছরের শুরুতেই বিভিন্ন বোর্ডে অনাস্থা আনার তোড়জোড় শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন তৃণমূল সরকার অনাস্থা আনার সময়সীমা আড়াই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করেছিল। যদিও তৎকালীন শাসকদলের দাবি ছিল, সুষ্ঠুভাবে স্ত্রীস্তর পঞ্চায়েত পরিচলানা করতেই এই ব্যবস্থা। তবে সেইসব পদক্ষেপও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূলকে। পালাবদলের পর থেকেই মহকুমার একের পর এক পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থার জন্য আবেদন জমা দেওয়ার হিড়িক শুরু হয়। প্রধান, উপপ্রধান ও সভাপতিদের বিরুদ্ধে অনাস্থার আবেদন জমা পড়ে। কোথাও ভোটাভুটিও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সপ্তাহকয়েক ধরে হাতে গোনা কয়েকটি জায়গা বাদ দিলে একাধিক অনাস্থা বৈঠক শুরুর আগেই স্থগিত করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনীর অভাব ও আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য অবনতির আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সোমবার রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শনিবার তা স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে জলঙ্গির ঘোষপাড়া, খয়রামারি ও সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতেও একইভাবে অনাস্থা বৈঠক স্থগিত হয়েছিল।

আর এই ধারাবাহিক ঘটনাতেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয় পক্ষেরই দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল। তাই সরাসরি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা করতে না পেরে প্রশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে চাইছে তারা। দুই পক্ষই অভিযোগ করেছে, অনাস্থা সভা স্থগিতের মাধ্যমে বিজেপি অপর পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলি বলেন, যে পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূল ভালো অবস্থায় রয়েছে, সেখানে কখনও আইনশৃঙ্খলা, কখনও পুলিশ না থাকার কারণ দেখিয়ে অনাস্থা সভা স্থগিত করা হচ্ছে। অথচ যেখানে তৃণমূল দুর্বল, সেখানে নির্বিঘ্নে অনাস্থা হচ্ছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সুবিধা করতে না পেরে বিজেপির মদতেই প্রশাসন বাম-কংগ্রেসকে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে তৃণমূলকে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

পাল্টা রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি বলেন, বিজেপি আসলে তৃণমূলকেই বাঁচাতে চাইছে। বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেস বোর্ড দখল করায় কংগ্রেসকে রুখতেই পুলিশ-প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশ নেই বলে রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা সভা স্থগিত করা হয়েছে। একটা অনাস্থা সভার জন্য কতই বা পুলিশ লাগে? আসলে সংখ্যালঘু এলাকায় বিজেপি জায়গা করতে পারবে না বলেই কংগ্রেসকে রুখতে তৃণমূলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

যদিও বিজেপি নেতা তথা রানিনগরের বিজেপি প্রার্থী রানা প্রতাপ সিংহ রায় বলেন, সারা রাজ্যে বিজেপির জয়জয়কার। অন্য দলকে সুবিধা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কংগ্রেস ও তৃণমূল নিজেদের ভাঙা-গড়ার রাজনীতিতে ব্যস্ত। আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!