ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের শহীদ জওয়ানদের মৃত্যুর খতিয়ান নিয়ে লোকসভাকে ‘বিভ্রান্ত’ করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গ বা প্রিভিলেজ মোশন আনার দাবি তুলল কংগ্রেস। মঙ্গলবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা লোকসভার সাংসদ কে সি বেণুগোপাল। লোকসভার কার্যপরিচালনা বিধির ২২৩ নম্বর ধারা উল্লেখ করে স্পিকারকে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, গত বছর পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ কোনো জওয়ান শহীদ হননি বলে সংসদে যে দাবি প্রতিরক্ষামন্ত্রী করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে কে সি বেণুগোপাল উল্লেখ করেছেন, গত বছর (২৮ জুলাই, ২০২৫) পাহলগামে জঙ্গি হামলা এবং তার জবাবে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে লোকসভায় আলোচনা চলছিল। সেই সময় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জোরালো দাবি করেছিলেন যে, এই অভিযানে ভারতীয় সেনাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ স্পিকারকে লেখা ওই চিঠির কপি পোস্ট করে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কে সি বেণুগোপাল। তিনি অভিযোগ করেন, লোকসভায় আলোচনা চলাকালীন রাজনাথ সিং সরাসরি দেশের মানুষের সামনে “মিথ্যে” বলেছেন।
কিন্তু বিতর্ক দানা বাঁধে যখন পরবর্তীতে একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়—‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ৬ জন জওয়ান শহীদ হয়েছেন। চিঠিতে বেণুগোপাল লিখেছেন, “সরকারি এই বয়ানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন সংসদের মেঝেতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে অপারেশন সিন্দুরে কোনো জওয়ানের মৃত্যু হয়নি, তা সম্পূর্ণ ভুল এবং সংসদকে বিভ্রান্ত করার শামিল। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম যে, কোনো মন্ত্রীর দ্বারা সংসদকে বিভ্রান্ত করা বা তথ্য গোপন করা স্বাধিকার ভঙ্গ এবং সংসদের অবমাননার সমান।”
কংগ্রেস সাংসদের প্রশ্ন, “এটি সংসদকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি স্পষ্ট ও সরাসরি মিথ্যে ছিল। তিনি কীভাবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বলতে পারেন যে কোনো ভারতীয় সৈনিক শহীদ হননি, অথচ তার ঠিক এক বছর পর সেনাবাহিনী নিজেই ঘোষণা করে যে আমরা ৬ জন জওয়ানকে হারিয়েছি?” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষের কাছে আমাদের জওয়ানদের বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা লুকিয়ে রাখা ওই ৬ জন শহীদের পরিবার এবং সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি এক চরম অপমান। তাঁরা আমাদের শত্রুদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিলেন, আর এই তথাকথিত ‘জাতীয়তাবাদী’ সরকার তাঁদের শাহাদাত নিয়ে স্রেফ মিথ্যে কথা বলে গেল!” কংগ্রেসের এই পদক্ষেপের পর আসন্ন সংসদ অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রক বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
