TOP NEWS

মেঘালয় সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবি সংঘাত! ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে বাংলাদেশী প্রবীণ

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস জেলার মহেন্দ্রগঞ্জের কাছে নন্দীরচর সীমান্তে অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর মধ্যে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে এক ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী নাগরিককে পুশব্যাক করার সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ পক্ষ ওই ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় দীর্ঘক্ষণ তিনি দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ অসহায়ভাবে আটকে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয় স্তরে একাধিক ফ্ল্যাগ মিটিং ব্যর্থ হওয়ার পর, অবশেষে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনার বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জামালপুরের বিজিবি জওয়ান এবং ভারতের বিএসএফ জওয়ানদের মধ্যে ওই ব্যক্তির নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, হ্যাপলেস বা সম্পূর্ণ অসহায় ওই প্রবীণ মানুষকে দু-পক্ষই এদিক-ওদিক ঠেলছে এবং তিনি নিজের পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূর্ণ দিশেহারা। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে তাঁর ঠিকানা ও জাতীয়তা নিয়ে জেরা করছিল। এই দৃশ্য দেখতে বাংলাদেশের দিকে প্রচুর স্থানীয় বাসিন্দাও জড়ো হয়েছিলেন।

অনুপ্রবেশকারী ওই ব্যক্তির নাম সতী রাজবংশী। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার অন্তর্গত চালনা গ্রামের মৃত ভাগবত্তের ছেলে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের দাবি ছিল, ওই ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক এবং বিএসএফ জোর করে তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিএসএফের শীর্ষ সূত্রের পাল্টা দাবি, বাংলাদেশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এক আধিকারিক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে পুশব্যাক করেনি, বরং তিনি হিন্দু হওয়ার কারণে বিজিবি-ই তাঁকে প্রথমে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঠেলে দিয়েছিল।” সীমান্ত আধিকারিকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য সীমান্ত অঞ্চলেও ইদানীং এই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন প্রতিবেশী রাজ্য আসামে অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চরম আকার ধারণ করেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালে রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেঘালয় সীমান্তের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি কেবল দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষার দুর্বলতাই প্রকাশ করেনি, বরং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে এক নতুন মাত্রায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!