TOP NEWS

ট্রাম্প বনাম ইরান: ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব কি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে নাকি নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত?

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দেওয়া এবং মার্কিন সামরিক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে আসা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের অবসানে তেহরান ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা জানালেও, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো এই প্রস্তাবে তেহরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান চায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের মূল দাবিগুলো হলো-

🔹আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান।

🔹ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ হবে না—এই মর্মে গ্যারান্টি।

🔹ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।

🔹বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

🔹যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান।

🔹লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা।

🔹কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা তৈরি করা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ৪৭ বছরে বিশ্ব ও মানবতার যে ক্ষতি ইরান করেছে, তার জন্য তারা এখনও ‘যথেষ্ট মূল্য’ চোকায়নি।

ট্রাম্পের প্রধান দুটি শর্ত বা ‘রেড লাইন’ হলো- ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধ সরিয়ে নিতে হবে।

শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি ‘দুষ্টুমি’ (Misbehave) করে, তবে পুনরায় হামলা চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান বর্তমানে ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায় রয়েছে।

৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সমুদ্রপথে সংঘাত থামেনি। দুই দেশই একে অপরের জাহাজ আটক ও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান এই জলপথ বন্ধ করে রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলার ছিল, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১.২৯ ডলারে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। বিশ্লেষক তৃতা পার্সির মতে, এই অবরোধ কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ইরান তাদের প্রস্তাবে কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশ এখনও যোজন যোজন দূরে। অন্যদিকে, সৌফান সেন্টারের কেনেথ কাটজম্যান মনে করেন, মূল সমস্যা হলো দুই দেশের মধ্যে গভীর ‘অবিশ্বাস’। ইরান চায় আগে মার্কিন অবরোধ উঠুক, আর ট্রাম্প চান আগে ইরান প্রণালী ছেড়ে দিক।

ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “এখন বল আমেরিকার কোর্টে। তারা কূটনীতি বেছে নেবে নাকি সংঘাত, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।” অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) ‘ফুল স্ট্যান্ডবাই’ মুডে রয়েছে। তাদের গোয়েন্দা ইউনিটের দাবি, ট্রাম্পকে এখন একটি ‘অসম্ভব সামরিক অভিযান’ অথবা একটি ‘খারাপ চুক্তি’র মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!