ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, তেহরানের সাথে চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটনকে এখন দুটি কঠিন বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আইআরজিসি-র মতে, আমেরিকার সামনে এখন হয় একটি ‘অসম্ভব’ যুদ্ধে জড়ানো, না হয় ইরানের শর্ত মেনে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ আইআরজিসি-র গোয়েন্দা বিভাগ একটি পোস্টের মাধ্যমে এই বার্তা দেয়। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমেরিকা যে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে, তা তুলে নেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন পাঠিয়ে দিয়েছে তেহরান। আইআরজিসি-র দাবি, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ইউরোপ, চীন এবং রাশিয়ার মতো শক্তিগুলো এখন ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সমালোচনা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালালে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর পাল্টা জবাবে ইরানও ইজরায়েল এবং পারস্য উপসাগরে অবস্থিত আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। একই সাথে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেয় তেহরান। জবাবে ১৩ এপ্রিল থেকে ওই কৌশলগত জলপথে ইরানি নৌযান চলাচলের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে মার্কিন নৌবাহিনী। বর্তমানে এই অবরোধকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা তুঙ্গে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দু’পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলেও স্থায়ী কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও এর জন্য কোনো নতুন সময়সীমা বা ডেডলাইন নির্ধারণ করেননি। তবে আইআরজিসি-র সাম্প্রতিক বিবৃতি বলছে, আলোচনার সুযোগ ফুরিয়ে আসছে।
ইরানি বাহিনীর ভাষ্যমতে, “মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা এখন অনেক সংকুচিত হয়ে এসেছে।” একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা আর অন্যদিকে চুক্তির বাধ্যবাধকতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আকারের যুদ্ধ এড়াতে হলে ওয়াশিংটনকে হয়তো শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পথই বেছে নিতে হবে, যা ট্রাম্পের ভাষায় একটি ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
