ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। রবিবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে ইইউ-এর বিদেশ নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, সাংবাদিকতা এখন এক ‘ভয়াবহ বাস্তবতার’ মুখোমুখি। কাজা কালাস তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালটি ছিল বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবথেকে রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী বছর। তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের হত্যা করা, আহত করা কিংবা হুমকি দেওয়া একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে কালাস বিশেষ করে কয়েকটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের নাম উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে প্রাণ হারানো সংবাদকর্মীদের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘর্ষে সাংবাদিক নিধনের ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। কালাস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের হত্যার প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হতে হবে এবং এই অপরাধের সাথে জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”
একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে কালাস বলেন, “যেকোনো গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি হলো স্বাধীন গণমাধ্যম।” সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপরই আঘাত। আন্তর্জাতিক আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংবাদিকদের সব সময় সুরক্ষা দিতে হবে। কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি, সহিংসতা, হয়রানি কিংবা নির্বাসনের ভয় ছাড়াই তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।”
বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক সংবাদকর্মীর কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুক্ত সাংবাদিকতা রক্ষায় কেবল বিবৃতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে বলে দাবি করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
