নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং মায়ের নিরন্তর অনুপ্রেরণায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছল ডোমকলের কৃতি ছাত্রী শাহরিন সুলতানা। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৮৯ নম্বর পেয়ে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে নবম স্থান অধিকার করে নজর কাড়ল ডোমকল মডেল স্কুলের এই মেধাবী ছাত্রী। তার এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, খুশির জোয়ার বইছে গোটা ডোমকল জুড়ে।
মুর্শিদাবাদের ডোমকলের নগর এলাকার বাসিন্দা শাহরিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী। তার মা ইসমাতারা খাতুন কল্যাণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। মায়ের হাত ধরেই তার শিক্ষাজীবনের শুরু। প্রথমে বাগডাঙ্গার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের নার্সারি বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেও, পরবর্তীতে মায়ের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আরও মজবুত হয়। পরে পঞ্চম শ্রেণিতে ডোমকল মডেল স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে সে। ফল প্রকাশের পর থেকেই শাহরিনদের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা। সকলেই মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান কৃতী ছাত্রীকে। ডোমকলের মানুষের কাছে শাহরিনের এই সাফল্য যেন এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
বিষয়ভিত্তিক নম্বরেও নিজের মেধার ছাপ রেখেছে শাহরিন। বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯৫, ইতিহাসে ৯৮ এবং ভূগোলে ৯৮ নম্বর পেয়েছে সে। পাশাপাশি অঙ্ক, ভৌত বিজ্ঞান এবং জীবন বিজ্ঞানে শতভাগ নম্বর অর্জন করে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৭০০-র মধ্যে ৬৮৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যের প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে সে। নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শাহরিন বলে, “খুব ভালো রেজাল্ট করব বলে আশা ছিল, কিন্তু রাজ্যের প্রথম দশে জায়গা পাব—এটা কখনও ভাবিনি। এই সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমার মায়ের। উনি সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, সময়মতো পড়াশোনা করতে সাহায্য করেছেন।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে শাহরিনের। তার কথায়, “আগামী দিনে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস অফিসার হতে চাই। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে চিকিৎসক হওয়ারও ইচ্ছে রয়েছে।” কৃতি ছাত্রী আরও জানায়, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের শুভেচ্ছা তাকে আরও উৎসাহিত করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহরিন ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছেই বড় হয়েছে। বাবার থেকে আলাদা থাকলেও মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং কঠোর পরিশ্রমই তার সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গৃহশিক্ষকদের সহযোগিতাও ছিল উল্লেখযোগ্য। মেয়ের এই সাফল্যে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মা ইসমাতারা খাতুন। তিনি বলেন, “আমি জীবনে প্রথম যখন চাকরি পাই, তখনও এত আনন্দ হয়নি। আজ মেয়ের এই সাফল্য দেখে তার থেকেও বেশি খুশি লাগছে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওকে খুব ভালোবাসেন এবং পড়াশোনায় সবসময় সহযোগিতা করেছেন। আশা করি, ও আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।”
ডোমকলের এই কৃতি ছাত্রীর সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমগ্র এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে। শাহরিনের এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে, সঠিক দিশা, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই বাধ্য। ডোমকল মডেল স্কুল কর্তৃপক্ষও শাহরিনের এই সাফল্যে গর্বিত। তাদের মতে, শাহরিন বরাবরই মেধাবী ছিল এবং এই ফল কেবল তাঁর একার নয়, বরং গোটা ডোমকলবাসীর জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি।
