ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পূর্ব আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ইবোলা (Ebola) মহামারী। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, পূর্বের প্রদেশগুলিতে ভাইরাসের সংক্রমণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ১,০০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০৭৭ জনে। এর মধ্যে ১২১টি ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে এবং ইতিমধ্যেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৩টি প্রদেশের ১৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই মারণ ভাইরাস দেশটির ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু— এই তিনটি প্রদেশের মোট ১৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে থাবা বসিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে একাধিক পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও নজরদারি, স্ক্রিনিং এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে। এই প্রাদুর্ভাবের উপকেন্দ্র বা ‘এপিসেন্টার’ হিসেবে চিহ্নিত ইতুরি প্রদেশে সংক্রমণ ঠেকাতে খেলাধুলাসহ সমস্ত ধরণের সামাজিক জমায়েত ও কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কঙ্গো কর্তৃপক্ষ।
৩৬০০ জন সংস্পর্শে, সতর্কবার্তায় ১০টি দেশ
কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী রজার কাম্বা (Roger Kamba) জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন প্রায় ৩,৬০০ জন, যাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আফ্রিকা মহাদেশের শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সিডিসি’ সতর্ক করে জানিয়েছে, কঙ্গোর প্রতিবেশী ও সংলগ্ন মোট ১০টি দেশ এই মুহূর্তে তীব্র ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই দেশগুলির তালিকায় রয়েছে—রুয়ান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং বুরুন্ডি। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং জাম্বিয়া।
সীমান্ত সিল করল উগান্ডা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হাই অ্যালার্ট’
কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ইতিমধ্যেই বর্তমান প্রাদুর্ভাবের ৭টি কেস নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া আটকাতে এবং নিজের দেশে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে বুধবার উগান্ডা সরকার কঙ্গোর সাথে যুক্ত সমস্ত সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ বা সিল করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই মহামারী নিয়ে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে “অত্যন্ত উচ্চ” স্তরে উন্নীত করেছে। কঙ্গোর সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি দেশ কঙ্গো থেকে যাতায়াতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
