ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন নিয়ে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের অস্বস্তি ও সংকট যেন কিছুতেই কাটছে না। বর্ষীয়ান নেতা রামলিঙ্গ রেড্ডির ক্ষোভ প্রশমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কর্ণাটক কংগ্রেসের অন্দরে আবার নতুন করে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে। দফতর বণ্টন নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট দুই মন্ত্রী দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সাথে সরাসরি কথা বলতে দেশের রাজধানী নতুন দিল্লিতে পাড়ি দিয়েছেন।
অসন্তুষ্ট এই মন্ত্রীদের তালিকায় অন্যতম বড় নাম হলো বেঙ্গালুরু উন্নয়ন মন্ত্রী কৃষ্ণা বাইরে গৌড়া। দফতর বরাদ্দ হওয়ার পরও তিনি এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক রিজওয়ান আরশাদও কর্ণাটক মন্ত্রিসভায় নিজের জায়গা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে এই মুহূর্তে দিল্লিতে দরবার করছেন। বর্তমানে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় ২১টি আসন বা বার্থ খালি রয়েছে।
কর্নাটক কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সূত্রপাত মূলত বেঙ্গালুরুর উন্নয়ন সংক্রান্ত দফতরটিকে কেন্দ্র করে। বর্ষীয়ান নেতা রামলিঙ্গ রেড্ডি আশা করেছিলেন তাঁকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার সেই দফতর কৃষ্ণা বাইরে গৌড়াকে দিয়ে রেড্ডিকে জলসেচ বা সেচ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে রামলিঙ্গ রেড্ডি গত ৩ জুন শপথ নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায়, ৫ জুন বিধায়ক ও মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন। সে সময় কংগ্রেস নেতৃত্ব কোনোমতে রেড্ডিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তাঁর ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হলেও, এবার উল্টো দিক থেকে চাপ বাড়িয়েছেন কৃষ্ণা বাইরে গৌড়া।
সূত্রের খবর, মন্ত্রী কৃষ্ণা বাইরে গৌড়া স্পষ্ট শর্ত রেখেছেন— ‘বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ এবং ‘বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন রিজন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’—এই দুটি শক্তিশালী সংস্থাকেই সম্পূর্ণভাবে তাঁর ‘বেঙ্গালুরু উন্নয়ন মন্ত্রক’-এর অধীনে আনতে হবে। এই দাবি আদায় করতেই তিনি বর্তমানে দিল্লিতে হাই কমান্ডের সাথে বৈঠকে বসেছেন।
এদিকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া বিধায়কদের অসন্তোষও শিবকুমার সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। রিজওয়ান আরশাদের মতো তরুণ ও প্রভাবশালী বিধায়করা খালি থাকা ২১টি আসনের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। কর্নাটকে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই যেভাবে একের পর এক অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দফতরের লড়াই সামনে আসছে, তাতে সরকার পরিচালনায় মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারকে আগামী দিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
