ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে বড়সড় টান পড়তে চলেছে। কেন্দ্র সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’-র আওতায় দরিদ্র পরিবারগুলিকে দেওয়া বার্ষিক ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডারের সংখ্যা এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র ৪টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরকারের দাবি, উজ্জ্বলা গ্রাহকদের গড় বার্ষিক ব্যবহারের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই কোটা কমানো হয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে চালু হওয়া এই প্রকল্পে শুরুতে দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের বছরে ১২টি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার দেওয়া হতো। গত বছর তা কমিয়ে ৯টি করা হয়েছিল এবং এবার তা আরও কমিয়ে বছরে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হলো।
মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব প্রবীণ মাল খনুজা এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। গত তিন মাসে দুই দফায় মোট ৮৯ টাকা বৃদ্ধির পর, গত ৭ জুন থেকে দিল্লিতে একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের খুচরো দাম দাঁড়িয়েছে ৯৪২ টাকা। উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা সিলিন্ডার পিছু ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান, ফলে তাঁদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে ৬৪২ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, “একটি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ১,৬০০ টাকা। ফলে ৩০০ টাকা ভর্তুকির পরও তেল সংস্থাগুলি সিলিন্ডার পিছু প্রায় ৭০০ টাকা লোকসান বা ক্ষতি বহন করছে।” তিনি আরও বলেন, গত ৭ জুন যে ২৯ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, তা হিসাব করলে পরিবার পিছু দৈনিক মাত্র ২০ পয়সা খরচ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও ভারত বিশ্বের অন্যতম কম দামে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছে।
ভারতের এলপিজি আমদানির খরচ মূলত বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ‘সৌদি চুক্তি মূল্য’-এর ওপর নির্ভরশীল। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলেই ভারতে রান্নার গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ ১,৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সাল থেকে সরকার এই খাতে ৫২,০০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।
কেবল রান্নার গ্যাসই নয়, লিটার পিছু উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি পেট্রল ও ডিজেলেও বিপুল লোকসান করছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলে ৬ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ টাকা করে ‘আন্ডার-রিকভারি’ বা ঘাটতি হচ্ছে। তেল সংস্থাগুলির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। এই বিপুল লোকসান সামাল দিতেই গত মাসে চার দফায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৭.৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সিএনজি-র দামও প্রতি কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভর্তুকির সিলিন্ডার ছাঁটাই এবং জ্বালানির এই চতুর্মুখী মূল্যবৃদ্ধি আগামী দিনে বাজারদরে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
