ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মণিপুরের জাতিগত সংঘর্ষের আবহে এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় সামনে এল। গত ১৩ মে কাংপোকপি জেলা থেকে অপহৃত হওয়া ছয় জন নাগা নাগরিকের ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মণিপুরের অন্যতম প্রধান নাগা সংগঠন ‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ২৪ ঘণ্টার সম্পূর্ণ ধর্মঘট বা বনধের ডাক দিয়েছে তারা।
ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “নিরীহ নাগা নাগরিকদের ওপর এই ধরনের পবিত্রতা নষ্টকারী এবং শয়তানি কাজের আমরা তীব্রতম ভাষায় নিন্দা করছি। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মানব মর্যাদার ওপর এক বড় আঘাত। গত ১৩ মে লেইলন ভাইফেই গ্রামের বাসিন্দা এবং কেএনএফ-পি জঙ্গিরা যে ছয় জন নিরীহ নাগাকে জিম্মি করেছিল, তাঁদের কেবল প্রাণহীন দেহাবশেষই নয়, বরং অত্যন্ত বিকৃত এবং খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।” নাগা সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত প্রশাসন তাদের দাবিদাওয়া মেনে নিচ্ছে, ততদিন তারা নিহত এই ছয় নাগা নাগরিকের মৃতদেহ গ্রহণ করবে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষোভ প্রশমন করতে ইউএনসি (UNC) রাজ্য সরকারের কাছে একটি চার্টার অফ ডিমান্ড বা দাবিদাওয়া পেশ করেছে। তাদের প্রধান দাবি- কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সাথে সরকারের চলমান ‘অপারেশন স্থগিতাদেশ’ বা এসওও চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ১৮ জন নাগা নাগরিককে অপহরণের সাথে যুক্ত সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠী ‘কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট-প্রেসিডেন্ট’ বা কেএনএফ(পি)-র সমস্ত সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন-কে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
অন্যদিকে, কাংপোকপি জেলায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র জঙ্গিদের হাতে অপহৃত ছয় নাগা গ্রামবাসীকে খুনের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে মণিপুর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যুম্নাম খেমচাঁদ সিং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাজ্য সরকার কোনোভাবেই এই ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না এবং প্রশাসন এই অত্যাচারের মুখে নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেফতার করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।” বর্তমানে এই ঘটনার জেরে মণিপুরের নাগা ও কুকি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে যাতে কোনো বড়সড় সংঘাত না বাধে, সে জন্য উপদ্রুত এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
