ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আর যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে তোয়াক্কা না করেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৬৫৯ জনে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮,১৮৩ জন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইজরায়েলি বিমান হামলায় নতুন করে আরও ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছেন ১১ জন। মূলত দক্ষিণ লেবানন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেই ইজরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। গত ১৭ এপ্রিল থেকে লেবাননে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইজরায়েল প্রতিদিন এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। নিয়মিত বিরতিতে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইজরায়েলি সেনা।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহর পাল্টা জবাবের পর ইজরায়েল এই সামরিক অভিযান শুরু করে। এই সংঘাতের ফলে লেবাননে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইজরায়েলি হামলার জেরে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোতে এবং লেবাননের নিরাপদ অঞ্চলগুলোতে রিফিউজিদের ভিড় বাড়ছে।
ইজরায়েলি প্রশাসনের দাবি, হিজবুল্লাহর হামলা রুখতে তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বফার জোন’ বজায় রাখছে। যদিও এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই স্থিতি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। লেবাননের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কূটনীতির আড়ালে ইজরায়েল আসলে লেবাননের মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্ব রাজনীতি এখন ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, লেবাননের এই লাশের মিছিল থামানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ছে না।
