ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইউরোপের দেশগুলোতে ক্রমশ গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়া এবং ইজরায়েলি দমনমূলক নীতির প্রতিফলন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ দূত (Special Rapporteur) ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। শনিবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে প্যালেস্টাইনি সংহতি ও প্রতিরোধ দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে ‘ইজরায়েলীকরণ’ (Israelization) প্রক্রিয়া চলছে।
ফ্রান্সেসকা আলবানিজ তাঁর ভাষণে মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্বের দুটি সর্বোচ্চ আদালত—ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (ICC) এবং ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস (ICJ)-এ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাফ জানান, “আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে প্যালেস্টাইনে যে দখলদারিত্ব চলছে, তা সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলোর উচিত নয় ইজরায়েলকে কোনো প্রকার সহায়তা করা।”
আলবানিজের মতে, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বদলে ইউরোপীয় দেশগুলো ক্রমাগত তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইজরায়েল থেকে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনা এবং সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজ দেশের আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব করার মাধ্যমে ইউরোপের সমাজব্যবস্থায় ইজরায়েলি দমননীতির প্রভাব পড়ছে। আলবানিজ দাবি করেন, যখন সমাজের একাংশের ‘ইজরায়েলীকরণ’ ঘটছে, তখন অন্য একাংশের ‘প্যালেস্টাইনীকরণ’ (Palestinianization) ঘটছে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষ প্যালেস্টাইনিদের মতোই অধিকারহীন হয়ে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রিসের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারুফাকিস আলবানিজের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গ্রিসই সম্ভবত ‘ইজরায়েলীকরণের’ সবথেকে বড় উদাহরণ। আলবানিজ বিশেষ করে গত শুক্রবার গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে গাজাগামী মানবিক ত্রাণবাহী জাহাজ ‘সুমুদ’ (Sumud) আটকে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিক কর্তৃপক্ষ ইজরায়েলিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি মানবিক মিশন বন্ধ করে দেওয়াটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অন্যায়।” মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আলবানিজের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারের কথা বলে, সেখানে ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সেই নীতি নিজেদের দেশে প্রয়োগ করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বিশেষ দূত।
